Thursday, June 30, 2022

এবার পাসওয়ার্ড জানলেও কেউ আপনার ওয়াইফাই কানেক্ট করতে পারবে না (পর্ব-২)

এবার পাসওয়ার্ড জানলেও কেউ আপনার ওয়াইফাই কানেক্ট করতে পারবে না (পর্ব-২)

আসসাামুআলাইকুম বন্ধুরা। কেমন আছেন সবাই। আশাকরি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।


যারা আমার এই পোস্টের প্রথম পর্ব দেখেন নি তারা এই লিংক এ ঢুকে দেখে নিতে পারেন।


গত পর্বে আমি দেখিয়েছিলাম কিভাবে ওয়্যারলেস ম্যাক ফিল্টার অপশন এ যেতে হয়। তবে পোষ্ট খুব বড়ো হয়ে যাওয়ায় মূল কাজ এর কিছুই দেখানো সম্ভব হয়নি।



এই পর্বে আমি পুরো ট্রিক টি বর্ণনা দিয়ে পোষ্ট টি কমপ্লিট করে ফেলব। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে সবার রাউটার এক রকম নয়। একেক জনের রাউটারে এক এক রকম ভাবে এই ম্যাক ফিল্টার অপশন টি দেওয়া হয়েছে। তাই আজকে একসাথে বেশ কয়েকটি রাউটারের ছবির মাধ্যমে বর্ণনা দিয়ে বুঝিয়ে দিব।


আমি কয়েকটা রাউটারের নাম সহ নিচে আলাদা আলাদা করে বর্ণনা দিয়ে দিচ্ছি। আপনি যে রাউটার চালান সেই রাউটারের অংশ টুকু পড়ে নিন।


ASUS রাউটারের ক্ষেত্রে:

প্রত্যেকটা স্টেপ খুব ভালো মত ফলো করুন। সম্পুর্ণ কাজ শেষ না হওয়ার আগে যেনো ভুলেও apply বাটনে চাপ না লাগে তাহলেই কিন্ত আপনার রাউটারের সর্বনাশ। সমস্ত স্টেপ ভালোমত চেক করার পর apply বাটনে ক্লিক করুন।


1. প্রথমে enable Mac filter কে অবশ্যই yes করে নিবেন।


2. Mac filter mode এ Accept ও reject থেকে accept সিলেক্ট করুন।


3. Client name (Mac address) এর বক্স এ প্রথমে আপনার মোবাইল এর ম্যাক এড্রেস(যারা ম্যাক সম্পর্কে জানেন না। অথবা ম্যাক অ্যাড্রেস বের করতে পারেন না তারা পোস্টের শেষ এর দিকে যেয়ে ম্যাক অ্যাড্রেস বের করা শিখে নিন।) টি খুব ভালো মত নির্ভুল ভাবে বড়ো হাতের অক্ষরে লিখে বসিয়ে নিন( সংখ্যায় জিরো “0” আর ইংরেজি বড়ো হাতের অক্ষরের ও”O” এর পার্থক্য বুঝে নিন কিবোর্ড থেকে। যেনো ম্যাক অ্যাড্রেস এ থাকলে লিখতে ভুল না হয়।).


4. এরপর প্লাস বাটন এ ক্লিক করুন। তাহলে দেখতে পারবেন আপনার মোবইল এর ম্যাক অ্যাড্রেস টি নিচে অ্যাড হয়ে গেছে।


এরপর যেই যেই মোবাইল গুলো তে আপনার wifi কানেক্ট রাখতে চান সেই প্রত্যেকটা মোবাইল গুলো এক এক করে হাতে নিন আর আর ম্যাক অ্যাড্রেস বের করে নির্ভুল ভাবে 3 নম্বর স্টেপ এর মত অ্যাড করে প্লাস বাটনে যোগ করে দিন। মনে রাখবেন যেই ফোনের ম্যাক এড্রেস একটা অক্ষর ও ভুল হবে। সেই ফোন এ internet connection দেওয়া যাবেনা।


5. সমস্ত ম্যাক অ্যাড্রেস সঠিক ভাবে বসানো হয়ে গেলে এপ্লাই বাটনে ক্লিক করুন(এপ্লাই করার আগে অবশ্যই ফাস্ট টু লাস্ট আরো একটা নির্ভুল রিভিশন দিয়ে নিবেন). এরপর নিচে আমার দেওয়া গাইডলাইন টি ফলো করুন।


Tp-link রাউটারের ক্ষেত্রে:

প্রত্যেকটা স্টেপ খুব ভালো মত ফলো করুন। সম্পুর্ণ কাজ শেষ না হওয়ার আগে যেনো ভুলেও save বাটনে চাপ না লাগে তাহলেই কিন্ত আপনার রাউটারের সর্বনাশ। সমস্ত স্টেপ ভালোমত চেক করার পর save বাটনে ক্লিক করুন।


1. বাটনে টেনে ম্যাক ফিল্টার enable করে নিবেন।


2. Allow wireless access only অপশন টি সিলেক্ট করুন।


3. Add বাটন এ ক্লিক করুন। এতে নিচে একটি ছোট বক্স ওপেন হবে। বক্স এ প্রথমে আপনার মোবাইল এর ম্যাক এড্রেস(যারা ম্যাক সম্পর্কে জানেন না। অথবা ম্যাক অ্যাড্রেস বের করতে পারেন না তারা পোস্টের শেষ এর দিকে যেয়ে ম্যাক অ্যাড্রেস বের করা শিখে নিন।) টি খুব ভালো মত নির্ভুল ভাবে বড়ো হাতের অক্ষরে লিখে বসিয়ে নিন( সংখ্যায় জিরো “0” আর ইংরেজি বড়ো হাতের অক্ষরের ও”O” এর পার্থক্য বুঝে নিন কিবোর্ড থেকে। যেনো ম্যাক অ্যাড্রেস এ থাকলে লিখতে ভুল না হয়।).


4. এরপর discripson এর জায়গায় নিজের নাম বা যেকোনো কিছু লিখে বসিয়ে দিন।


5. Enable this entry option টি সিলেক্ট করুন।


6. Ok তে ক্লিক করুন। দেখবেন আপনার ফোনের ম্যাক অ্যাড্রেস টি অ্যাড হয়ে গেছে।


এরপর যেই যেই মোবাইল গুলো তে আপনার wifi কানেক্ট রাখতে চান সেই প্রত্যেকটা মোবাইল গুলো এক এক করে হাতে নিন আর আর ম্যাক অ্যাড্রেস বের করে নির্ভুল ভাবে 3-6 নম্বর স্টেপ এর মত অ্যাড করে ok বাটনে প্রেস করে দিন। মনে রাখবেন যেই ফোনের ম্যাক এড্রেস একটা অক্ষর ও ভুল হবে। সেই ফোন এ internet connection দেওয়া যাবেনা।


7. সমস্ত ম্যাক অ্যাড্রেস সঠিক ভাবে বসানো হয়ে গেলে সেভ বাটনে ক্লিক করুন(সেভ করার আগে অবশ্যই ফাস্ট টু লাস্ট আরো একটা নির্ভুল রিভিশন দিয়ে নিবেন). এরপর নিচে আমার দেওয়া গাইডলাইন টি ফলো করুন।


Tenda রাউটারের ক্ষেত্রে:

প্রত্যেকটা স্টেপ খুব ভালো মত ফলো করুন। সম্পুর্ণ কাজ শেষ না হওয়ার আগে যেনো ভুলেও ok বাটনে চাপ না লাগে তাহলেই কিন্ত আপনার রাউটারের সর্বনাশ। সমস্ত স্টেপ ভালোমত চেক করার পর ok বাটনে ক্লিক করুন।


1. প্রথমে whitelist সিলেক্ট করুন।


2. ম্যাক এড্রেস এর বক্স এ প্রথমে আপনার মোবাইল এর ম্যাক এড্রেস(যারা ম্যাক সম্পর্কে জানেন না। অথবা ম্যাক অ্যাড্রেস বের করতে পারেন না তারা পোস্টের শেষ এর দিকে যেয়ে ম্যাক অ্যাড্রেস বের করা শিখে নিন।) টি খুব ভালো মত নির্ভুল ভাবে বড়ো হাতের অক্ষরে লিখে বসিয়ে নিন( সংখ্যায় জিরো “0” আর ইংরেজি বড়ো হাতের অক্ষরের ও”O” এর পার্থক্য বুঝে নিন কিবোর্ড থেকে। যেনো ম্যাক অ্যাড্রেস এ থাকলে লিখতে ভুল না হয়।).


3. এরপর প্লাস বাটন এ ক্লিক করুন। তাহলে দেখতে পারবেন আপনার মোবইল এর ম্যাক অ্যাড্রেস টি নিচে অ্যাড হয়ে গেছে।


এরপর যেই যেই মোবাইল গুলো তে আপনার wifi কানেক্ট রাখতে চান সেই প্রত্যেকটা মোবাইল গুলো এক এক করে হাতে নিন আর আর ম্যাক অ্যাড্রেস বের করে নির্ভুল ভাবে 2 নম্বর স্টেপ এর মত অ্যাড করে প্লাস বাটনে যোগ করে দিন। মনে রাখবেন যেই ফোনের ম্যাক এড্রেস একটা অক্ষর ও ভুল হবে। সেই ফোন এ internet connection দেওয়া যাবেনা।


4. সমস্ত ম্যাক অ্যাড্রেস সঠিক ভাবে বসানো হয়ে গেলে ওকে বাটনে ক্লিক করুন(ওকে করার আগে অবশ্যই ফাস্ট টু লাস্ট আরো একটা নির্ভুল রিভিশন দিয়ে নিবেন). এরপর নিচে আমার দেওয়া গাইডলাইন টি ফলো করুন।


D-Link রাউটারের ক্ষেত্রে:

প্রত্যেকটা স্টেপ খুব ভালো মত ফলো করুন। সম্পুর্ণ কাজ শেষ না হওয়ার আগে যেনো ভুলেও save setting বাটনে চাপ না লাগে তাহলেই কিন্ত আপনার রাউটারের সর্বনাশ। সমস্ত স্টেপ ভালোমত চেক করার পর save setting বাটনে ক্লিক করুন।


1. প্রথমে turn ম্যাক ফিল্টারিং অফ লেখা থাকে। সেটাকে ক্লিক করলে তিনটি অপশন আসবে। Turn mac filtering on and allow computer অপশন টি সিলেক্ট করুন।


2. নিচের 0 লেখা বক্স গুলো তে এক এক করে প্রথমে আপনার নিজের ফোনের এর পরে আপনার রাউটারে যত গুলো মোবাইল কানেক্ট থাকবে সব গুলো মোবাইলের ম্যাক এড্রেস(যারা ম্যাক সম্পর্কে জানেন না। অথবা ম্যাক অ্যাড্রেস বের করতে পারেন না তারা পোস্টের শেষ এর দিকে যেয়ে ম্যাক অ্যাড্রেস বের করা শিখে নিন।) খুব ভালো মত নির্ভুল ভাবে বড়ো হাতের অক্ষরে লিখে বসিয়ে নিন( সংখ্যায় জিরো “0” আর ইংরেজি বড়ো হাতের অক্ষরের ও”O” এর পার্থক্য বুঝে নিন কিবোর্ড থেকে। যেনো ম্যাক অ্যাড্রেস এ থাকলে লিখতে ভুল না হয়।).


মনে রাখবেন যেই ফোনের ম্যাক এড্রেস একটা অক্ষর ও ভুল হবে। সেই ফোন এ internet connection দেওয়া যাবেনা।

3. সমস্ত ম্যাক অ্যাড্রেস সঠিক ভাবে বসানো হয়ে গেলে সেভ সেটিং বাটনে ক্লিক করুন(সেভ করার আগে অবশ্যই ফাস্ট টু লাস্ট আরো একটা নির্ভুল রিভিশন দিয়ে নিবেন). এরপর নিচে আমার দেওয়া গাইডলাইন টি ফলো করুন।


এখন আপনাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ম্যাক এড্রেস বের করতে জানেন না। যারা ম্যাক এড্রেস বের করতে জানেন না তারা নিচের রুলস টি ফলো করুন:


ম্যাক এড্রেস বের করার নিয়ম:


1. প্রথমে আপনার ফোনের সেটিং এ যাবেন।


2. সেটিং এর সার্চ অপশন mac address লিখে সার্চ করুন।


3. সেখান থেকে যেই রেজাল্ট গুলো আসবে। এদের মধ্যে থেকে ১ম রেজাল্ট টি সিলেক্ট করুন।


4: আপনি নিজেই আপনার মোবাইলের ম্যাক এড্রেস দেখতে পারবেন।


(যাদের সেটিং এ সার্চ অপশন নেই তারা about phone থেকে স্ট্যাটাস এ দেখতে পারেন। অথবা ওয়াইফাই সেটিং টি ভালোমত খুঁজে দেখতে পারেন)


ট্রিক টি তো কমপ্লিট হয়েই গেলো।এখন আপনি খেয়াল করে দেখুন যে আপনি যে কয়টা ফোনের ম্যাক অ্যাড্রেস রাউটারে বসিয়েছেন আপনার রাউটার ঠিক সেই কয়টা ফোনেই চলছে। অন্য কোনো ফোন এ আপনি আপনার রাউটারের পাসওয়ার্ড বসিয়ে দিলেও সেই ফোনে আপনার ওয়াইফাই কানেক্ট হবেনা। যদি অন্য কোনো মোবাইলে ওয়াইফাই কানেক্ট করতে চান তাহলে সেই ফোন টি হতে নিয়ে ম্যাক অ্যাড্রেস টি বের করবেন। এরপর আপনার মোবাইল দিয়ে এডমিন প্যানেল এ যেয়ে ম্যাক ফিল্টার অপশন থেকে সেই ফোনের ম্যাক অ্যাড্রেস টি ও বসিয়ে নিন এর পর সেভ করে নিন। এরপর সেই মোবাইলে পাসওয়ার্ড বসিয়ে কানেক্ট করলে কানেক্ট হবে।


আজ এই পর্যন্তই থাকুক। সকলেই ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন। আর কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানান। আর আমার পরবর্তী পোস্ট টি কিসের উপর চান সেটি আমাকে জনিয়ে দিন কমেন্টে, জিমেইল এ, অথবা টুইটারে।
জিমেইল: marufkhan1215@gmail.com
Twitter: 1215maruf

The post এবার পাসওয়ার্ড জানলেও কেউ আপনার ওয়াইফাই কানেক্ট করতে পারবে না (পর্ব-২) appeared first on Trickbd.com.


নতুন ফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই করা উচিত এবং ভালো ফোন চেনার উপায়

নতুন ফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই করা উচিত এবং ভালো ফোন চেনার উপায়

Hello what’s up guys কেমন আছেন সবাই ? আশা করি ভালো আছেন । সবাইকে স্বাগতম আজকের একটি নতুন পোস্টে । টাইটেল আর thumbnail দেখে already বুঝে গেছেন আজকের টপিক কি । আশা করি পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখবেন । তো বেশি কথা না বলে আজকের পোষ্ট শুরু করা যাক

মোবাইল কেনার আগে ২০ টি জরুরি টিপস

বেশ কিছু অর্থ খরচ করে শখের জিনিসটি কিনতে গেলে নানা দোটানায় পড়তে হয়। এটা ভালো হবে তো, নাকি ওটা? এমন আরো অনেক প্রশ্ন। এ যুগে অতিপ্রিয় মোবাইল ফোনসেট কেনার সময় তো চিন্তার শেষ নেই। তাই আপনাদের মস্তিষ্কের চাপ কিছুটা কমিয়ে দিতে মোবাইল ফোনসেট কেনার ২০টি টিপস দেওয়া হলো।

১. ডিজাইন নিয়ে একটু চিন্তা করুন

স্মার্ট ফোনের ক্ষেত্রে ডিজাইনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার কিছু নেই। এটা একান্ত নিজের রুচির ব্যাপার। বাজারের সব স্মার্ট ফোনের নজরকাড়া ডিজাইন রয়েছে। আবার বিভিন্ন কেস রয়েছে ফোনটিকে আরো আকর্ষণীয় করার জন্য। কাজেই নিজের ব্যক্তিগত চাহিদা এবং রুচি অনুযায়ী ডিজাইন পছন্দ করাই ভালো।

২. ওজন এবং অনুভূতি

মোবাইল ফোনসেটের এ বৈশিষ্ট্য নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না। অনেক ফোন আছে যা পকেটে থাকলে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে কিছু একটা রয়েছে। মোবাইল ফোনসেট যত বড় হয় সাধারণত এর ওজনও তত বেশি হয়। তবে এসব দেখার আগে খেয়াল করবেন ফোনসেটে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে কি না। কারণ ব্যাটারির ওজনটিও বেশ হয়।

৩. পর্দার আকারটিই সবকিছু নয়

স্ক্রিনের আকারটি সবাই দেখেন নতুন মোবাইল কেনার সময়। এখন বড় স্ক্রিনের মোবাইল বেশি জনপ্রিয়। তবে সহজে বহন করতে চাইলে ছোট পর্দার মোবাইল নেওয়া উচিত। চার ইঞ্চি বা সাড়ে চার ইঞ্চি বা পাঁচ ইঞ্চি পর্দার মোবাইল ফোনেরও বেশ চাহিদা রয়েছে।

৪. ডিসপ্লের গুণগত মান

পর্দার গুণগত মান অনেক প্রয়োজনীয় বিষয়। সবচেয়ে ভালো মানের ডিসপ্লে ১০৮০পি (১৯২০ x ১০৮০ পিক্সেলস)। তবে এই ডিসপ্লেযুক্ত ফোনের দামটিও বেশ চড়া হবে। খেয়াল করে দেখতে হবে ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে দেখলে ছবি পরিষ্কার দেখা যায় কি না। সাধারণ মানের মোবাইলের ডিসপ্লে ৭২০পি-এর কম হয়ে থাকে।

৫. অপারেটিং সিস্টেম

মৌলিক কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড এখনকার সবচেয়ে জনপ্রিয় সিস্টেম। এদিকে আইফোনের রয়েছে আইওএস যার সাম্প্রতিকতম সংস্করণ হলো আইওএস ৭। আবার উইন্ডোজ অপারেটিংয়ের ভক্তের সংখ্যাও নেহায়েতই কম নয়। পছন্দেরটি বেছে নিন। কারণ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করেই গোটা ফোনের সব কার্যক্রম নির্ধারিত হয়।

৬. থ্রি-জি নাকি ফোর-জি

আমাদের দেশে সবেমাত্র থ্রি-জি কানেকশন চালু হয়েছে। ডাটা কানেকশনের গতি নির্ভর করে এর ওপর। আরো দ্রুত কানেকশন দেয় ফোর-জি। এ যুগের স্মার্ট ফোনের জন্য থ্রি-জি কানেকশন নিতে পারে এমন মোবাইল বেশি ভালো।

৭. ব্যাটারির শক্তি

ব্যাটারির শক্তি নির্ধারিত হয় মোবাইল ফোনটি কেমন তার ওপর ভিত্তি করে। তবে বড় মাপের স্ক্রিনের মোবাইল বেশি ব্যাটারি শক্তি ক্ষয় করে। তাই শক্তিশালী ব্যাটারি প্রয়োজন হবে মোবাইলটি অনেক সময় ধরে চালু রাখার জন্য। এখন ৩০০০ এমএএইচ সবচেয়ে বেশি শক্তির ব্যাটারি হিসেবে বাজারে চালু রয়েছে।

৮. সফটওয়্যার আপডেট রাখা

ফোনের সফটওয়্যার প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে। আপনিও যদি নিজের ফোনের সফটওয়্যারগুলো আপডেট রাখেন তাহলে যন্ত্রটি সুন্দরমতো কাজ করবে। নয়তো নানা ভেজাল করবে যেকোনো কাজ করতে। নতুন কোনো অ্যাপস সাপোর্ট করবে না এবং ফোনটি ধীরগতির হয়ে যাবে।

৯. ২ জিবি র‌্যাম নেওয়ার চেষ্টা করুন

ফোনের কার্যক্রমে দ্রুততা দেবে র‌্যাম। ফোন কিনতে বেশ কিছু অর্থ ব্যয় করলে এক জিবি র‌্যামই যথেষ্ট। তবে অল্প কিছু অর্থযোগে বা পছন্দ পরিবর্তনে ২ জিবির ব্যবস্থা করা গেলে অনেক ভালো। আধুনিক মোবাইলগুলো ৩ জিবি পর্যন্ত র‌্যাম নিয়ে বাজারে আসছে।

১০. ক্যামেরা রেজ্যুলেশন অতি দরকারি নয়

ক্যামেরা রেজ্যুলেশনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটিও নয়। কারণ ভালো মানের ছবি তোলার কাজ ক্যামেরার, মোবাইল ফোনের নয়। বেশি রেজ্যুলেশনের মোবাইল ক্যামেরার ছবি কিছুটা ভালো আসে। কিন্তু তা ক্যামেরার মতো নয়। তাই অন্য বিষয় বাদ দিয়ে ফোনে ক্যামেরা রেজ্যুলেন বেশি খোঁজাটা বোকামি।

১১. শক্তপোক্ত ফোন

স্মার্ট ফোনের জন্য তা কতটা শক্তপোক্ত তা জরুরি বিষয়। তা ছাড়া পর্দাতে সহজে দাগ যেন না পড়ে সে জন্য স্ক্র্যাচ রেজিস্ট্যান্ট গ্লাস রয়েছে অনেক ফোনে। হাত থেকে পড়ে গেলেই ভেঙে বা ফেটে যাবে না, অন্তত তেমন তো হতে হবে ফোনটিকে।

১২. ব্লু টুথ বেশ জরুরি

যাই কিনুন, দেখে নিন ব্লু টুথ রয়েছে কি না। এটি একটি দারুণ জিনিস। ব্লু টুথ ছাড়া অন্য কোনো মোবাইলের সঙ্গে আপনি কিছুই লেনদেন করতে পারবেন না। এখনকার দামি সব ফোনেই ব্লু টুথ রয়েছে। তবে কমদামি মোবাইল কিনতে গেলে একটু দেখে নিন তা রয়েছে কি না।

১৩. এনএফসি থাকলে ভালো

এনএফসি বা নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বেশ প্রয়োজনীয় বিষয়। অন্য কোনো স্মার্ট ফোন বা ট্যাবের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য এনএফএস দরকার হয়। এ ছাড়া আপনার কেনাকাটার জন্য কোনো ডিজিটাল ওয়ালেট অথবা দাম পরিশোধের সাপোর্টেড প্রসেসর থাকলে তার ব্যবহার এনএফএস-যুক্ত মোবাইল সহজ করে দেবে। অ্যাপলের নিজস্ব এনএফএস প্রযুক্তি রয়েছে, যার নাম এয়ারড্রপ।

১৪. ঝামেলাবিহীন চার্জের জন্য ওয়্যারলেস চার্জিং

তার ছাড়া চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা অবশ্য খুব প্রয়োজনীয় কিছু নয়। তবে যেখানে সেখানে প্লাগ পয়েন্ট না থাকার সমস্যায় ওয়্যারলেস চার্জিং সিস্টেম বেশ মজার বিষয়।

১৫. পপুলার রিভিউ ও রেটিং সাইট ব্যবহার করুন

ইন্টারনেট থাকলে নানা সাইটে ঢুঁ মারতেই হয়। তবে ম্যালওয়্যারের আক্রমণ থেকে বাঁচতে পপুলার রিভিউ ও রেটিং সাইটে ঘোরাফেরা করবেন। নইলে বিপদ।

১৬. অ্যাক্সেসরিজ

অ্যাক্সেসরিজ সব মোবাইলের সঙ্গেই দেওয়া হয়। তবে অ্যাক্সেসরিজ দেখে ফোন পছন্দ করার দরকার নেই। স্মার্ট অ্যাক্সেসরিজ বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। ভালো মানের ফোনের অ্যাক্সেসরিজও বেশ ভালো হয়।

১৭. দাম

এটা আসল বিষয়। এমনিতেই মোবাইল ফোনসেটের দাম যত বেশি হবে, তার সবকিছুই তত ভালো হবে। তবে মোবাইল ফোনসেট কেনার আগে একই মডেলের অন্য কোনো সংস্করণ খুব শিগগিরই বাজারে আসলে তা থেকে কোনো সুবিধে পান কি না ভেবে নিতে হবে।

১৮. কন্ট্রাক্ট ফোন নেওয়ার জন্য

ইউরোপ-আমেরিকাতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিভিন্ন শর্তের ভিত্তিতে মোবাইল ফোনসেট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের দেশেও অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো এমন অফার দিয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে এবং মোবাইলগুলোর মডেলের সঙ্গে দাম ও সুবিধাগুলোর তুলনা করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী নেবেন।

১৯. অ্যাপ্লিকেশন

মোবাইল ফোনসেটেরর অ্যাপস প্রতিনিয়ত এত বেশি বানানো হচ্ছে যে, পছন্দ করতে গেলে আপনার মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় হবে। ইচ্ছামতো অ্যাপস ডাউন লোড করে ব্যবহার করুন। শুধু একটি বিষয় নজরে রাখবেন। মোবাইল ফোনসেটটি যেসব অ্যাপস সাপোর্ট করে তাই ব্যবহার করুন। আর যেসব অ্যাপস আপনার মোবাইলের জন্য নয় তা অবশ্যই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন না। তা ছাড়া মোবাইল ফোনসেট অনুযায়ী আলাদাভাবে অ্যাপসের কালেকশন ইন্টারনেটে দেওয়া থাকে। সেখান থেকেই ফোনটির জন্য অ্যাপস বাছাউ করে নেওয়া উচিত।

২০। বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে নিন

অবশ্যই বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে নিন আপনি যে মোবাইল কেনবেন সেটির সম্পর্কে তাহলে অনেক তথ্য পেতে পারেন ।
কেনার আগে ভালো স্মার্টফোন চেনার উপায়

স্মার্টফোন হঠাৎ কিনে ফেললেই হলো না। অনেক কিছু দেখে-শুনে-বুঝে তবেই কেনা উচিত ফোন। তা ছাড়া আপনি ঠিক কীভাবে ফোনটি ব্যবহার করবেন তার ওপরও নির্ভর করে স্ক্রিন সাইজ, র‌্যাম এবং ডিসপ্লে কেমন হবে। ফোন কেনার আগে মাথায় রাখবেন এই টিপসগুলো :

১. যদি বাজেট অনেকটা বেশি থাকে, আইফোন কেনাই ভালো। তবে সস্তাদামের সেকেন্ডহ্যান্ড বা অনেক পুরনো ভার্সনের নয়। আপডেটেড ভার্সনের দাম অনেক। অত টাকা পকেটে না থাকলে অ্যানড্রয়েড কিনুন।

২. ব্ল্যাকবেরি যে কিনবেন না তা আর নিশ্চয়ই নতুন করে বলতে হবে না। ঠিক তেমনই উইনডোজ ফোন কেনার আগে দুইবার ভাববেন। প্রথমত, মাইক্রোসফট স্টোরে বেশি অ্যাপ থাকে না আর যদি শুধু ফোন করা আর ফোন ধরার জন্যেই ফোন কিনতে হয় তবে আর দামি স্মার্টফোন কেন, সাধারণ ফোন কেনাই ভালো।

৩. ফোন কেনার আগে সবচেয়ে প্রথমে যেটি দেখবেন সেটি হলো প্রসেসর। ভালো প্রসেসর মানেই ফোন হবে সুপারফাস্ট, গেম খেলার সময়ে ফোন হ্যাং করবেন না এবং ফটো এডিটিং হবে তাড়াতাড়ি। স্ন্যাপড্র্যাগন ৬০০ সিরিজের প্রসেসর থাকে মাঝারি রেঞ্জের ফোনে কিন্তু সবচেয়ে ভালো হলো কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২০ এবং ৮১০ প্রসেসর। আইফোনের ক্ষেত্রে ৬৪ বিট, এ৯ চিপ হলো বেস্ট যা রয়েছে আইফোন সিক্সে।

৪. ভারতে এখন ফোরজি ডেটা কানেকশন এসে গিয়েছে তাই এখন নতুন ফোন কিনলে ফোরজি সাপোর্ট করবে এমন ফোন কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. র‌্যাম হলো আর একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি পকেটের জোর থাকে তবে ৪ জিবি র‌্যামের ফোন কেনাই ভালো। নাহলে অন্তত ২ জিবি র‌্যাম যেন থাকে। কারণ এখন মাঝারি রেঞ্জের সব ফোনেই ২ জিবি র‌্যাম থাকে এমনকী আইফোন সিক্সেও তাই।

৬. র‌্যাম, ফোরজি, প্রসেসরের পরই দেখবেন ডিসপ্লে। চেষ্টা করবেন অ্যামোলেড ডিসপ্লের ফোন কিনতে। চড়া রোদে দাঁড়ালেও পরিষ্কার দেখতে পাবেন স্ক্রিন। কোয়াড এইচডি ২৫৬০x১৪৪০ পিক্সেলের ফোনগুলির দাম অনেক বেশি। মাঝারি রেঞ্জের ফোন কিনলে রেজিলিউশন যেন অন্ততপক্ষে ১২৮০x৭২০ পিক্সেল হয়।

৭. এর পরই দেখবেন স্টোরেজ কেমন। কখনো এক্সপ্যান্ডেবল স্টোরেজ নেই এমন ফোন কিনবেন না। যাঁরা স্মার্টফোন ঠিকঠাক ব্যবহার করতে পারেন, তাঁরা প্রচুর অ্যাপ ডাউনলোড করেন। এর জন্য অনেকটা স্টোরেজ স্পেস লাগে। যাতে প্রয়োজনে মাইক্রো-এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারেন, সেই অপশনটি খোলা রাখবেন। অন্ততপক্ষে ১৬ জিবি ইন্টারনাল মেমরি আছে এমন ফোনই কিনবেন।

৮. ফ্রন্ট ক্যামেরা নেই এবং এলইডি ফ্ল্যাশ নেই এমন ফোন না কেনাই ভালো। এখন মাঝারি রেঞ্জের ফোনে স্ট্যান্ডার্ড ১৩ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা থাকে। আইফোন সিক্সএস প্লাস, গ্যালাক্সি এস৭, গ্যালাক্সি এস৭ এজ, এইচটিসি ১০-এর ক্যামেরা খুবই ভালো। আরও মজার এলজি জি৫। এতে দুই রকমের রিয়ার ক্যামেরা সেটিং রয়েছে। একটি সাধারণ এবং অন্যটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল শুটের জন্য।

৯. ব্যাটারি লাইফ হলো আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একবার ফুলচার্জ দেওয়ার পর যে সমস্ত ফোরজি ফোনে টানা ৮ ঘণ্টা নেট সার্ফিং করা যায়, সেই ফোনই সবচেয়ে ভালো। ব্যাটারি লাইফ গড়ে ৩০০০ এমএএইচ হলেই ভালো। মাঝারি রেঞ্জের ফোনে ২৫০০ এমএএইচ-এর কম ব্যাটারি লাইফের ফোন না কেনাই ভালো।

১০. ওয়াই-ফাই সব স্মার্টফোনেই থাকে। চেষ্টা করবেন ব্লু-টুথ ৩.০ রয়েছে এমন ফোন কিনতে কারণ এই ভার্সনটি থাকলে স্মার্টওয়াচের সঙ্গে মোবাইলটি কানেক্ট করা যায়। তা ছাড়া জিপিএস রয়েছে এমন ফোন কেনাই ভালো যাতে ফোন হারিয়ে গেলে ট্র্যাক করতে সুবিধা হয়। আর যদি ম্যাগনেটোমিটার সেন্সর থাকে তবে স্মার্টফোন কম্পাসেরও কাজ করবে।

১১. ডলবি অ্যাটমোস সারাউন্ড সাউন্ড এখন স্মার্টফোনের অন্যতম লেটেস্ট ফিচার। লেনোভোর সাম্প্রতিক প্রায় সব ফোনেই এই ফিচার রয়েছে। যাঁরা ফোনে ভিডিও দেখেন, গান শোনেন বা সিনেমা দেখেন তাঁরা ডলবি স্পিকার রয়েছে এমন ফোনসেট কিনলেই ভালো।

১২. ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিকিউরিটি, শ্যাটারপ্রুফ, স্ক্র্যাচ-প্রুফ স্ক্রিন, গোরিলা গ্লাস, ওয়াটারপ্রুফ, এনএফসি ট্যাগ এই সবকিছু অত্যাধুনিক স্মার্টফোন ফিচার্স। বাজেট যত বাড়বে, ততই এই সবকিছু যোগ হবে ফোনের ফিচারে। যদি অ্যাফর্ড করতে পারেন তবে এই সমস্ত সুবিধা রয়েছে এমন ফোনই কিনবেন। আবার অনেক বাজেট স্মার্টফোনেও এগুলির মধ্যে একটি দুটি পাওয়া যায়।

তো আজকে এই পর্যন্তই । মানুষ মাত্রই ভুল হয় । তাই ভুল হলে ক্ষমা করে দিয়েন । আশা করি পোস্টটি সবার ভালো লেগেছে । কোনো কিছু না বুঝতে পারলে কমেন্টে জানান । আপনি চাইলে এই লিংক এ ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে join করতে পারেন । আর যেকোনো প্রয়োজনে ফেসবুকে  আমার সাথে যোগাযোগ করবেন । 

The post নতুন ফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই করা উচিত এবং ভালো ফোন চেনার উপায় appeared first on Trickbd.com.


GTA San Andreas এর Android [Full] 🥵 ভার্সন ডাউনলোড করে নিন।

GTA San Andreas এর Android [Full] 🥵 ভার্সন ডাউনলোড করে নিন।

GTA San Andreas

GTA বা Grand Theft Auto এর গেম গুলোর মধ্যে San Andreas এর জনপ্রীয়তার মাত্রা টা অন্য লেভেল এর।

এর স্টোরী ,Gameplay , Dialogue একেক টা যেনো মাস্টারপিস।

অনেকে শুধু এটি কম্পিউটার এই খেলেছেন । মোবাইল এ খেলেন নি।

*** অথবা অনেক এ জানেন ও না যে GTA San Andreas এর মোবাইল ভার্সন ও রয়েছে  যা হুবহু PC এর ভার্সন এর মতই। সব মিশন যাতে রয়েছে।

প্লে স্টোর এ এটির দাম 6.99 $।।

আপনারা অনলাইন খেলতে চাইলে Play Store থেকে নিতে পারেন ।

কিন্তু টাকা ছাড়া অফলাইন মিশন গুলো খেলতে এখনই ডাউনলোড করে নিন গেম টি।

Downloading Part

GTA Apk [Telegram Link

GTA MOD apk [Telegram Link]

OBB File [Google Drive Link]

এখান থেকে আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী ডাউনলোড করুন । [Telegram Link]

*** MOD ভার্সন টি ইনস্টল দেয়ার পর আবার GTA San Andreas ইনস্টল হবে। চিন্তা করবেন না। কারো যদি MOD install না হয় তাহলে শুধু APK টা ইনস্টল করুন।

gta san andreas

*** এবার OBB ফাইল টি zArchiever দিয়ে Extract করে Internal Storage এর Android ফোল্ডার এর obb ফোল্ডার এর ভীতরে রাখুন।

gta san andreas mobile

*** এরপর গেম টি অন করুন। প্রথমবার হয়তো কিছুক্ষন সময় নিবে ।

*** এরপর আপনার ইচ্ছা মত সেটিং করে নিয়ে খেলতে থাকুন পুরো গেম টি। এটি কোনো লাইট ভার্সন নয়। এখানে পুরো গেম টি রয়েছে। আপনি একটা একটা করে সব মিশন খেলতে পারবেন।

*** আপনার স্মৃতী বিজরীত কম্পিউটার গেম GTA San Andreas মোবাইল এ খেলার পর অবশ্যই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।

** এর আগে হয়ত অনেক যায়গা থেকে ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারেন নি বা ইনস্টল হয় নি। আবার হয়তো অনেকে শুধু  Lite ভার্সন টি পেয়েছে।

** কিন্তু আমি আজকে গেমটির ফূল ভার্সন নিয়েই হাজির হয়েছি  ।🥰

***** আমি আমার ব্যাক্তিগত দুইটি ফোন এ গেম টিকে টেস্ট করেছি।

*** একটি Redmi Note 8 Pro যা Android 11 এ রান করে ।

MOD Install করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে  । আপনার ক্ষেত্রে সমস্যা না ও হতে পারে। সমস্যা হলেও শুধু APK তা ডাউনলোড দিবেন কোনো সমস্যা ছারাই রান করতে পারবেন।

*** আরেকটি Huawei Nova 2i যা Android 8 এ রান করে [এটাতে MOD ও খুব ইজিলি ইন্সটল হয়েছে ] ।

কোনো প্রোকার Crash , Bug ছাড়াই গেম টি চালু হয়েছে।
আপনাদের ক্ষেত্রে প্রবলেম হলে, অথবা কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলে অবশ্যই জানাবেন।

*** GTA San Andreas এর Cheat Code ফোন এও রান করার ট্রিক্স জানতে চাইলে অবশ্যই জানান।

*** এছাড়া আপনাদের সবার প্রীয় GTA Vice City এর ফুল ভার্সন নিয়েও পোস্ট করবো কি না তাও আমাকে কমেন্ট এ জানান।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। নতুন পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই হাজীর হবো। আল্লাহ হাফেজ।

ফেসবুক এ আমি

The post GTA San Andreas এর Android [Full] 🥵 ভার্সন ডাউনলোড করে নিন। appeared first on Trickbd.com.


সরকারিভাবে ফ্রি ১৩৫০০ টাকা সহ ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্স গ্রহণ করুন।

সরকারিভাবে প্রদানকৃত বিভিন্ন বিষয়ের উপর ফ্রি কোর্স নিয়ে আমি এই পর্যন্ত বেশ কয়েকটি পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি। তবে আজকরে পোস্টটি একটু ভিন্ন৷ যদিও এটি অন্যান্য সরকারিভাবে প্রদানকৃত ফ্রি প্রশিক্ষণের মতই একটি। এটি ভিন্ন বলার কারণ হচ্ছে আগেরগুলি সর্বজনীন থাকলেও এটি একটি নির্ধারিত ধর্ম ও নির্ধারিত শ্রেণির পেশার বা মানুষের জন্য। কারণ আজকের টপিকের বিষয়বস্তু হচ্ছে শুধুমাত্র যারা মুসলিম এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ালেখা করেছেন তাদের জন্য। এইবার মূল কথায় আসি। আপনাদের মধ্যে যাদের আশা বা স্বপ্ন রয়েছে ইমাম হওয়ার বা ইমামতি করার। তারা চাইলে সরকারিভাবে বর্তমান সময়ের যুগোপযোগী ইমাম হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে করে আপনি আপনার স্কিল ডেভেলপ করতে পারবেন।

ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্সঃ
বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে যুগোপযোগী ইমাম তৈরি করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কোর্সের ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। যার মধ্যে একটি হলো আমাদের আজকের বিষয়ের ৪৫ দিনের এই কোর্স।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঃ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ৪৫ দিন ব্যাপি এই ফ্রি কোর্সটি অতি শীঘ্রই চালু হবে এই মর্মে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি এর পরিচালকের গত ২৬ তারিখের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। যাতে এই কোর্সটি গ্রহণ করার জন্য কিভাবে কি করতে হবে সকল কিছু উল্লেখ রয়েছে। এইবার চলুন নিচ থেকে এর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

ইমাম প্রশিক্ষণ গ্রহণের আবেদনের প্রক্রিয়াঃ
ইমাম প্রশিক্ষণের কোর্সটি গ্রহণ করতে আপনাকে সর্বপ্রথম স্ব হস্তে লিখে আবেদন করতে হবে এবং সেটি স্ব শরীরে গিয়ে জেলা অথবা বিভাগীয় অফিসে জমা দিয়ে আসতে হবে।

এখন কথা হচ্ছে কিভাবে বা কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনি নিজ হাতে আবেদনের দরখাস্তটি লিখবেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভর্তি ফরম আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে। এখন কোত্থেকে করতে হবে এই বিষয়ে কিছু বলা নাই। তবে হ্যাঁ আমি ধারনা করে নিতে পারি যে আপনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় অথবা জেলা পর্যায়ের কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও আপনি চাইলে তাদের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া এই কোর্সের জন্য আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে এতে তথ্য অনুযায়ী পূরণ করে দিতে পারেন। অথবা এইভাবে দেখে দেখে পুরো বিষয়টি অর্থাৎ আবেদনটি আপনি নিজ হাতে লিখতে পারেন। (যদি সম্ভব হয় দুটো পদ্ধতিই অনুসরণ কইরেন যেটা কাজে লাগে।)

আবদেনপত্র ডাউনলোডঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া এই কোর্সের জন্য আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।

আবেদনপত্র লেখার পর করণীয়ঃ
নিজ হাতে আবেদনপত্রটি লিখার পর আপনি নিজে স্ব শরীরে আপনার জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসে বা কার্যালয়ে গিয়ে জমা দিয়ে আসবেন। এছাড়াও সাথে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যাবেন। যেগুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হয়েছে।

আবেদন করার ফিঃ
এই কোর্সের জন্য আবেদন করতে কোন প্রকার ফি বা টাকা পয়সার দরকার নেই। অর্থাৎ একদম ফ্রিতে আপনি এই কোর্সটির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন করার যোগ্যতাঃ

  • বর্তমানে যারা বিভিন্ন মসজিদে ইমাম, সহকারী ইমাম ও মুয়াজ্জিন হিসেবে কর্মরত আছেন।
  • আপনার বয়স ২০-৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং সুস্থ ও সবল দেহের অধিকারী হতে হবে।
  • মাদ্রাসা পড়ুয়া হতে হবে এবং নূন্যতম দাখিল পাশ হতে হবে।
  • হাফেজ ক্বারিদের ক্ষেত্রে ভালো বাংলা জানতে হবে। তাহলে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল বলে গণ্য হবে।
  • কোভিড-১৯ এর দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করতে হবে।

আবেদন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

  • নিজ হাতে পূরণকৃত বা লিখিত আবেদন কপি।
  • এক কপি সত্যায়িত রঙ্গিণ ছবি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সার্টিফিকেট বা সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র অথবা ওয়ার্ডের কমিশনার বা মেম্বারের কাছ থেকে ইমামতি করার স্বপক্ষে প্রত্যয়নপত্র বা প্রমাণপত্র নিতে হবে।

উপরোল্লিখিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপনাকে আবেদন করার পর যখন আপনার জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আবেদন কপি জমা দিতে যাবেন তখন সাথে করে এগুলো নিয়ে যাবেন। অর্থাৎ উক্ত কাগজগুলিও আপনার জমা দিতে হবে।

চুড়ান্ত বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পদক্ষেপঃ
আবেদন কপি জমা দিয়ে আসার পর এখান থেকে বাছাই করা হবে। তো এই চুড়ান্ত বাছাইয়ের মধ্যে যদি আপনি নির্বাচিত হয়ে যান তাহলে আরো কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আপনাকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সার্টিফিকেট বা সনদপত্রের মূল কপি।
  • আর যদি শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা সনদপত্রের মূল কপি না থাকে তাহলে আপনার শিক্ষা
  • প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে প্রশংসাপত্রের মূল কপি।
  • চূড়ান্তভাবে বাছাইতে নির্বাচিত হওয়ার পর কার্যালয় থেকে একটি ছুটির ফরম দেওয়া হবে। উক্ত ফরমে
  • আপনার মসজিদের সভাপতি বা সেক্রেটারির কাছ থেকে ৪৫ দিনের ছুটির অনুমোদন নিতে হবে।
  • কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকলে সেখানের কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র।
  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত রঙ্গিন ছবি।
  • প্রশিক্ষণ চলাকালীন হোস্টেলে অবস্থান করতে হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে ভাতা প্রদানঃ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে ইমাম প্রশিক্ষণের কোর্সটি সম্পন্ন করার পর আপনাকে দৈনিক ভাতা প্রদান হিসেবে ৩০০ টাকা করে ৪৫ দিন অনুযায়ী মোট ১৩৫০০ টাকা প্রদান করা হবে। যদিও এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই তবে এই কোর্সের নিয়মানুযায়ী এবং তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী আপনি কোর্স সম্পন্ন করার পর ১৩৫০০ টাকা ভাতা বা বকশিস পাবেন। তবে প্রাথমিক নির্বাচনের পর সেখান থেকে এই ব্যাপারে জেনে নিতে পারবেন।

আবেদনের সময়সীমাঃ
আগামী ০৪/০৭/২০২২ পর্যন্ত আপনি উক্ত আবেদনটি করতে পারবেন।

প্রাথমিক বাছাইয়ের তারিখঃ
০৪/০৭/২০২২ তারিখে আবেদন কপি জমা দেওয়ার পর এর পরেরদিন ০৫/০৭/২০২২ তারিখে সকাল ১০টা থেকে প্রাথমিক বাছাই শুরু হবে।

প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখঃ
বিজ্ঞপ্তিতে প্রশিক্ষণ শুরুর তারিখ নিয়ে কোন আলোচনা করা হয়নি। তবে প্রাথমিক নির্বাচনের দিন আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কথাঃ
এই কোর্স সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানার জন্য প্রাথমিক নির্বাচনের তালিকায় যদি আপনার নাম নির্বাচিত হয়। তাহলে আপনাকে কিছু ফরম দেওয়া হবে সে ফরম গুলোর মধ্যে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় বা জেলা কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেখতে পারবেন।

আপনাদের সুবিধার্থে আমি আমার টিপস এন্ড ট্রিকসগুলি ভিডিও আকারে শেয়ার করার জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেছি। আশা করি চ্যানেলটি Subscribe করবেন।

সৌজন্যে : বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং বর্তমান সময়ের বাংলা ভাষায় সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক টিউটোরিয়াল সাইট – www.TutorialBD71.blogspot.com নিত্যনতুন বিভিন্ন বিষয়ে টিউটোরিয়াল পেতে সাইটটিতে সবসময় ভিজিট করুন।

The post সরকারিভাবে ফ্রি ১৩৫০০ টাকা সহ ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্স গ্রহণ করুন। appeared first on Trickbd.com.


Wednesday, June 29, 2022

নিয়ে নিন চমৎকার একটা ভৌতিক গল্প [শেষ অংশ]

নিয়ে নিন চমৎকার একটা ভৌতিক গল্প [শেষ অংশ]

Hello what’s up guys কেমন আছেন সবাই ? আশা করি ভালো আছেন । সবাইকে স্বাগতম আজকের একটি নতুন পোস্টে । টাইটেল আর thumbnail দেখে already বুঝে গেছেন আজকের টপিক কি । আশা করি পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখবেন । তো বেশি কথা না বলে আজকের পোষ্ট শুরু করা যাক তো যারা আগের পার্ট পরেননি তারা এই লিংক এ গিয়ে পরে আসুন ।
এবার আগের পার্ট এর পর ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

এক মূহুর্ত দেরি না করে সঠান হাঁটতে লাগলাম।সিড়ি ভেঙ্গে নিচে
নামার সময়ও কেন যেন মনে হচ্ছিলো আঁড়ালে থেকে
কেউ আমার দিকে দৃষ্টি রাখছে।
সে চোখের দৃষ্টি বড্ড প্রখর।
দ্রুত নিচে নেমে জানালা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।বাহিরে বের
হওয়ার পর পরই ঠান্ডা বাতাসে শরীরে অন্যরকম একটা প্রশান্তি
অনুভব হলো। মনে হচ্ছে এতক্ষণ পৃথিবী থেকে অনেক
দূরে একটা ভিন্নস্থানে চলে অবস্থান করছিলাম,যেখানে প্রাণ
খুলে শ্বাস নেওয়াটাই বড্ড কষ্টের। একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে বাগান
পেরিয়ে প্রাচীরের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। এ বাড়িতে
কিছু তো একটা গন্ডগোল আছে।
তবে কি সেটা? আর সেটাই আমাকে খুঁজে বার করতে হবে।
প্রাচীরের কাছে এসে একটাবার দোতলার বেলকনির দিকে
তাকালাম,রোদের আলোতে বেলকনিটা চকচক করছে।
কেন যানি মনে হচ্ছে বাচ্চা মেয়েটা রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে
আছে,আর ক্ষীণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
দেরি না করে প্রাচীর টপকিয়ে বাহিরে এসে সোজা বাড়ির
দিকে রওনা দিলাম।
বাড়ি এসেই টেবিলের উপর থাকা পানির জগটা উপরে ধরে ঢকাঢক
এক নিঃস্বাসে অর্ধেক শেষ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে
ধপাস করে সোফাতে বসে পড়লাম।
এতক্ষণে যেন শরীরে প্রাণের সঞ্চারণ হলো।
নীলা এসে কাঁধে হাত রাখতেই চমকে উঠে
বললাম,”কে,কে?”
নীলা সামনে এসে চোখ উল্টিয়ে বললো,”ভূত। না ভূত
নয়,শাকচুন্নি।”
আমি নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বললাম,”ওহ তুমি। “
“কেন অন্যকাউকে আশা করেছিলে নাকি?”
“হুম,হলে মন্দ হতো না।”
“কিহ্। কি বললা তুমি?”
“আরে বাদ দাও,
অন্যকাউকে আসা করবো কেন,আর যে মেয়ে সামান্য
কোলবালিশকে তাঁর স্বামীর ভাগ দিতে চায় না,সে একটা
মেয়েকে।
যায় হোক আবরার কোথায়?ওকে দেখছি না যে?”
“রুমে খেলছে। তুমি সকাল সকাল কোথায় বেরিয়েছিলে,গাড়ি
টাও তো রেখে গেছিলে?”
“একটু হাঁটতে বেরিয়েছিলাম।”
“সকাল নয়টার পর?”
“আরে না,কাছেই একটু দরকার ছিলো সেইজন্য। চলো
খেতে দিবা খুব জোর ক্ষুধা লেগেছে।”
“হুম আসো।”
কথাটা বলেই নীলা রান্নাঘরে চলে গেলো।
আমি সোফাতে বসে বসে একমনে ঐ বাড়িতে ঘটে যাওয়া
ঘটনাগুলো আওড়াচ্ছি।
‘এ কিভাবে সম্ভব, একটা মেয়ে আজ দশ বারো বছর পরও একই
রকম কিভাবে থাকতে পারে? আর গতকাল যদি আমি ভুল দেখেও
থাকি তাহলে ঐ মেয়েটাকেই কেন দেখলাম! বাকিদের
চোখে তাহলে কেন পড়লো না?
তাহলে কি মেয়েটার বয়সটা ঐ পাঁচ-ছয় বছরেই আটকে
রয়েছে? আবার গতরাতে দিব্যি সবকিছু মনে হলো নিজের
চোখের সামনেই ঘটে গেলো,অথচ সকালে উঠে নীলার
মুখে যা শুনলাম,তাঁর সাথে সেই সবের কোনোকিছুই ঘটেনি।
তাহলে কি আমি ইদানিং একটু বেশিই কল্পনাপ্রবণ হয়ে যাচ্ছি?
মাথাতে ঢুকছে না। এসব কি হচ্ছে আমার সাথে?
“খেতে আসো।”
নীলার কথাতে সম্মতি ফিরলো আমার।সোফা থেকে উঠে
চোখ-মুখে পানি ছিটিয়ে খেতে খেতে বসলাম।
খাবার খাওয়ার এক পর্যায়ে রান্না ঘরের এক পাশে হঠাৎ করে
দেখলাম ঐ বাড়ির ফ্রেমে দেখা সেই মহিলাটি দেওয়ালের
সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বড় অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার
দিকে তাকিয়ে আছে সে। যেন কিছু একটা বলতে চায়ছে
আমাকে। আমি চিৎকার দিয়ে উঠে বললাম,”কে তুমি? তুমি ঐ বাড়ির
মহিলাটা না! এইখানে কি করছো?”
নীলা আমার চেচামেচি শুনে সেদিকে তাকালো,তারপর
বললো,”কোন মহিলা,আরে ওটা তো আমাদের সারদা মাসি।
গতকাল রাতেই চলে এসেছে গ্রাম থেকে।”
আমি নিজেকে শান্ত আবারো তাকালাম সেদিকে।
হ্যা নীলা তো ঠিকি বলছে,সারদা মাসি দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ এমন
প্রশ্ন করাতে সে বেশ ইতস্তত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
বললাম,”তুমি যে বললা,মাসির আসতে আরো কয়দিন সময় লাগবে?”
নীলা বললো,”হ্যা বলেছিলাম,তখন মাসি বলেছিলো দেখেই
তো বলেছিলাম। আজকে দেখি সকালে চলে এসেছে।
জিজ্ঞাসা করাতে বললো,তাঁর ছেলে নাকি এখন অনেকটাই সুস্থ্য
তাই চলে এসেছে।”
“কিন্তু আমি সকালে যখন রান্নাঘরে গেলাম তখন তো মাসিকে
দেখলাম না,তাই হঠাৎ দেখে ভেবেছি অন্যকেউ।”
“তখনো ছিলো,মাসিকে একটু বাজারে পাঠিয়েছিলাম,সবজি কেনার
জন্য।”
“ওহ্ আচ্ছ ঠিক আছে।”
আর কিছু না বলে চুপচাপ খেতে লাগলাম।
খাবার শেষে টেবিল ছেড়ে উঠার সময় আরো একবার মাসির
দিকে তাকাতেই দেখলাম,মাসি বড় অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে
তাকিয়ে আছে অপলকভাবে।
তাঁর দিকে চোখ পড়তেই মুখ বাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি
খেলে গেলো তার ঠোঁটে।
এসবকিছুই ভ্রম,নিজেকে কোনরকমে বুঝিয়ে টেবিল ছেড়ে
উঠে গিয়ে বেলকনিতে দাঁড়ালাম।
বাহিরে রোদ ঝলমল করছে।
আবরার তাঁর নতুন বন্ধুদের নিয়ে বল খেলছে। প্রাণ খুলে
হাসছে ছেলেটা।
ছেলের হাসি দেখে আমার মুখেও সামান্য হাসি খেলে
গেলো।
চারপাশ দেখতে দেখতে আবার চোখ পড়লো রাস্তার ওপাশে
থাকা বাড়িটার বেলকনির দিকে।
রোদ পড়ে চকচক করছে বেলকনিটা। নিজের অজান্তেই
বলে উঠলাম,”আসলেই কি ভূত বলে কিছু আছে? আমার সাথে
গত কয়েকদিনে যা হয়ে এসেছে সেসবের কোনো
বৈজ্ঞানিক ব্যাখা আমার জানা নেই।
কাউকে এসব বললে,সে নিশ্চয় আমাকে পাগল বলে আখ্যায়িত
করবে নয়তো বলবে সবকিছুই আমার কল্পনা।
কারণ কিছুদিন আগে আমি নিজেও এইসবে কখনো বিশ্বাস করিনি।
মানুষ কি মারা যাওয়ার পর আর ফিরে আসতে পারে?
কখনোই ফিরে আসেনা। তাহলে আমার সাথে যেগুলো
হচ্ছে তার ব্যাখা কে দিবে?
“তুমি এখানে? আর আমি সারাবাড়ি খুঁজছি।”
নীলার কথাতে পিছন ফিরে তাকিয়ে বললাম,”কেন কিছু বলবা?”
“নাহ্ তেমন কিছু না। আচ্ছা আমাকে সত্যি করে বলো তো,তুমি
কি আমার কাছ থেকে কোনো কিছু লুকাচ্ছো?”
“তোমার কেন এমনটা মনে হলো?”
“নাহ্,এমনিতেই। কয়দিন ধরে তোমার ব্যবহারের বেশ পরিবর্তন
দেখছি তো তাই। কোনো কিছু নিয়ে সমস্যা হলে আমার সাথে
সেয়ার করতে পারো। সেদিন বললে, আবরারের সাথে কাকে
না কি দেখেছো,আবার বললা আমি নাকি এ বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার
কথা বলেছি তোমাকে,একটু আগে আবার মাসিকে দেখে
চিৎকার দিয়ে উঠলে। তুমি কি কোনো কিছু নিয়ে চিন্তিত।অফিসে
কোনো ঝামেলা হয়েছে কী?”
আমার কাছে বলতে পারো,আর তুমি তখন মাসিকে অন্য একজন
মহিলা বলছিলে,কোন মহিলার কথা বলছিলে?
আমি হেসে বললাম,”আরে নাহ্। তেমন কিছু না। গুরুতর কিছু হলে
তো সবার আগে তোমাকেই বলতাম। ওসব বাদ দাও।”
নীলা খানিকটা হতাশ মনে বললো,”কি জানি। আচ্ছা বাদ দিলাম।
আচ্ছা চলো না আজকে কোথাও থেকে একটু ঘুরে আসি।
তোমার তো আজকে অফিস ছুটি। শুনেছি এইখানে পাশেই
একটা সুন্দর লেক আছে। চলো না সেখান থেকে একটু ঘুরে
আসি। তাহলে দেখবা মনটা অনেকটা হাল্কা হয়ে গিয়েছে।”
আমিও আর না করলাম না,আসলেই এসবের থেকে কিছুটা দূরে
থাকার জন্য হলেও একটু ঘুরাঘুরির প্রয়োজন আছে। না হলে
আজগুবি চিন্তাভাবনা আরো বেশি করে পাকড়ে ধরবে আমাকে।
বললাম,”আচ্ছা ঠিক আছে,তাহলে বিকেলে রেডি হয়ে
থেকো।”
নীলা হেসে জবাব দিলো,”আচ্ছা ঠিক আছে। এখানে দাঁড়িয়ে
কি করছো চলো রুমে চলো।সপ্তাহে তো একটা দিন বাসায়
থাকো আমাকে একটু সময় দিবা তা না,সকাল থেকে পালিয়ে
পালিয়ে বেড়াচ্ছেন উনি।”
কথাটা বলেই হেচকা টানে বেলকনি থেকে সরিয়ে নিলো
আমাকে।
বিকেলে আমরা তিনজন মিলে লেকে ঘুরতে গেলাম। আবরার
তো মহাখুশি। সারাবিকেল খুনসুটিতে কেটে গেলো
আমাদের। রাতে বাহিরে ডিনার করে একবারে বাসায় ফিরলাম।
তিনজনেই বড্ড ক্লান্ত,আবরার তো গাড়ির ভিতরেই ঘুমিয়ে
পড়েছে। বাসায় এসে আবরারকে কোলে নিয়ে রুমে এসে
শুইয়ে দিলাম।
নীলা বললো,”তুমি আর কিছু খাবে? মাসি খাবার গুলো ফ্রিজে
ঠিকঠাক মত রেখেছে কিনা দেখে আসি।”
আমি মোড়ামুড়ি করতে করতে বললাম,”না,আমি আর কিছু খাবো না।
বড্ড ক্লান্ত লাগছে,আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।
তুমিও তাড়াতাড়ি এসে রুমের লাইট টা অফ করে দিয়ে শুয়ে
পড়ো।”
“আচ্ছা ঠিক আছে।”
ঘুমের ভিতরে হঠাৎ একটা শব্দ শুনে জেগে উঠলাম।
তাকিয়ে দেখি নীলা ড্রইং রুমে হাঁটাহাটি করছে। বিছানা ছেড়ে
উঠে বসলাম।
‘এতো রাতে নীলা না ঘুমিয়ে হাঁটাহাটি করছে কেন?
কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর দেখলাম, সদর
দরজা খুলে বাহিরে দিকে সঠান হেঁটে চলে যাচ্ছে নীলা।
জানবার ইচ্ছে আমাকে ভাবিয়ে তুললো,
আমি খাট থেকে নেমে বেশ কয়েকবার নীলাকে ডাক
দিলাম,কিন্তু কেন যানি মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বার হলো না
আমার।
‘এতো রাতে নীলা বাহিরে কোথায় যাচ্ছে?
খাট থেকে নেমে নীলাকে উদ্দ্যেশ্য করে তাঁর পিছু নিয়ে
হাঁটা শুরু করে দিলাম।
নীলা সোজা বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার ওপাশে থাকা বাড়িটার
কাছে গিয়ে গেইটের সামনে থমকে দাঁড়ালো।
আমি আরো কয়েকবার তাকে ডাকার চেষ্টা করলাম, কিন্তু মুখ
দিয়ে কোনো শব্দ বার হলো না।
বেশ খানিকটা অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়লাম, দেখলাম দিনের
আলোতে তালা বন্ধ হয়ে থাকা গেইট টা আপনা-আপনি খুলে দু
পাশে ভাগ হয়ে গেলো।
নীলা সন্তপর্ণে ভিতরে ঢুকে গেলো।
আমিও তাঁর পিছু নিয়ে ভিতরে ঢুকলাম।
নীলা ধির গতিতে বাড়ির সদর দরজার দিকে এগিয়ে যেতেই
দেখলাম সেটাও নিজ থেকে খুলে গেলো। নীলা যেন
এখন নীলার ভিতরে আর নেই। তার সাথে হাজারো অদৃশ্য শক্তি
তাকে ঘিরে ধরে আছে। কিন্তু নীলা ভিতরে ঢুকছে কেন?
আর ও এই বাড়িতে এমনভাবে ঢুকছে যেন তাঁর নিত্যদিন যাতায়াত এই
বাড়িটাতে।
কিন্তু বাড়িটা তো সুবিধার নয়, বাড়িটা তো অভিশপ্ত।
নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারলাম না।
ছুটে গিয়ে পিছন থেকে নীলার হাতটা ধরতেই অনুভব
করলাম,নীলার হাতটা বরফের মত ঠান্ডা হয়ে আছে।
হাতটা ধরতেই নীলা ঘুরে তাকালো, মূহুর্তেই শরীরে বিদ্যুৎ
খেলে গেলো, শক খাওয়ার মত ঝাটকা লাগলো আমার।
গতরাতে নীলার বলা ভয়ংকর সেই বিবরণের সাথে এখন এই
মেয়েটার হুবুহু মিলে যাচ্ছে। পুরো শরীর ফ্যাকাশে,যেন
কেউ শরীরের সমস্ত রক্ত শুষে নিয়ে শুধু শরীরটাকে
ছেড়ে দিয়েছে। চোখের ভিতরের মনি দুটো কেউ যেন
খুবলে নিয়ে কালোর পরিবর্তে সাদা চুন লাগিয়ে দিয়েছে।
এটাতো নীলা না!! তাহলে নীলা কোথায়?
এবার মুখ দিয়ে কথা বেরিয়ে এলো আমার,কাপাকাপা কণ্ঠে
বললাম,”কে কে তুমি?”
মেয়েটা হা হা করে হাসতে লাগলো। সে হাসির শব্দ যেন
কানের পর্দা ভেদ করে সোজা হৃৎপিন্ডতে গিয়ে আঘাত
করছে আমার।
আমি স্বজোরে হাতটা টান মেরে ছাড়িয়ে নিতে চায়লে মনে
হলো হাতটা আমার হলেও সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে
অন্যকেউ।
সাতপাঁচ কোনোকিছু ভাবার আগেই মেয়েটা আমাকে টেনে
নিয়ে যেতে লাগলো ভিতরের দিকে। আমি যতবারই টান দিয়ে
হাতটাকে ছাড়িয়ে নিতে চায়ছি ততোই যেন হাতটা আরো বেশি
করে আটকে যাচ্ছে তাঁর হাতের সাথে।
জোরে চিৎকার দিতে গিয়েও কেন যানি মুখ দিয়ে কোনো
শব্দ বার হচ্ছে না আমার।
কেউ যেন আমার বাকশক্তি ছিনিয়ে নিয়েছে।
প্রাণপণে মেয়েটার থেকে রেহায় পাওয়ার জন্য ছটফট
করতে থাকা আমাকে টানতে টানতে ভিতরে নিয়ে গিয়ে সিড়ি
বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো মেয়েটা।
আমার হাত-পা, পুরো শরীরের পেশীগুলো যেন কাজ করা
বন্ধ করে দিচ্ছে ধিরে ধিরে।
মেয়েটা ঠিক সেই রুমটাতেই আমাকে নিয়ে গেলো যেই
রুমটাতে দিনের বেলাতে আমি এসেছিলাম।
রুমে আসার পর দিনের বেলাতে দেখা সেই ওয়ারড্রবের
কাছে এনে হাতটা ছেড়ে দিলো আমার।
আমি হাত মুক্ত দেখে উঠে পালানোর চেষ্টা করলেও
পালাতে ব্যর্থ হলাম।
মেয়েটা এবার দু হাত দিয়ে স্বজোরে হাতল ধরে ওয়ারড্রবের
পাল্লা দুটো টান দিতেই পঁচা গন্ধে নাক বন্ধ হয়ে আসলো
আমার।
ওয়ারড্রবের ভিতরে দুজন মানুষের লাশ পড়ে আছে।লাশ দুটো
পঁচে গলে একটা আরেকটা সাথে লেপ্টে গিয়েছে।
হাজারো মাংসাশী পোকা যেন লাশ দুটোর পুরো শরীরে
ছড়িয়ে থেকে মাংসগুলো পরম তৃপ্তির সহিত খাচ্ছে।
এমন বিভৎসতা দেখে যেন আমার চোখ দুটি খুবলে গিয়ে
খসে পড়ে যেতে চায়ছে এখনি।কি হচ্ছে এসব? বিভৎসতা যে
আর কোনভাবেই চোখদুটি সহ্য করতে পারছে না আমার।
আমাকে দেখে লাশের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাংসাশী
পোকাগুলো এবার আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো পঁচা
লাশদুটোকে ছেড়ে।
আমি প্রাণপণে চিৎকার দিতে গিয়েও কেন যানি মুখ দিয়ে
কোনো শব্দ বের হচ্ছে না।
তাহলে কি আমারো একই অবস্থা হবে? এই লাশদুটোর মত
করে কি আমার পুরো শরীরটাকেও এই মাংসাশী পোকা গুলো
পরম তৃপ্তির সহিত খুবলে খুবলে খেয়ে শরীর থেকে
মাংসগুলো আলাদা করে দিবে?
ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে,একটা পোকা এসে হাতে কামড়
দিতেই চিৎকার দিয়ে উঠলাম। কেউ যেন শতশত সুই হাতের
ভিতরে একত্রে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
ব্যাথাতে কাতরাচ্ছি আমি।তবুও যেন কেউ আমার আর্তনাদ শুনতে
পাচ্ছে না।
বিশাল এই পৃথিবীর বুকে যেন নিজেকে এইমূহুর্তে খুব তুচ্ছ
মনে হচ্ছে,
নিজেকে এদের থেকে বাঁচাতে না পেরে।
শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে এবার শেষবারের মত আর্তনাদ
করে উঠলাম নিজেকে বাঁচানোর জন্য।

“এই কি হয়ছে ওমন করছো কেন? এই আশিক,আশিক। কি হয়ছে
তোমার?”
নীলার ধাক্কাধাক্কিতে ঘুম ভাঙ্গলো। চোখ মেলে তাকিয়ে
যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। তারমানে এতক্ষণ দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম।
দুঃস্বপ্ন এতোটা বিভৎস আর ভয়ংকর হয় জানা ছিলো না।
“কি হয়ছে,ওমনভাবে গোঙ্গানি দিচ্ছিলে কেন? কোনো খারাপ
স্বপ্ন দেখেছো কী?”
আমি খানিক্ষন চুপ থেকে পাশের থাকা বোতলটা হাতে নিয়ে পানি
পান করার পর বললাম,”হুম,খুব ভয়ানক একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু
কি দেখেছি সেটা মনে নেই। শুধু মনে আছে তুমি আমাকে
টেনে হিচড়ে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছিলে।”
নীলা চোখ দুটি গোলগোল করে বললো,”আমি! আমি
তোমাকে টানছিলাম। যাক স্বপ্নের ভিতরেও তো তোমাকে
টানার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।”
“তুমি চায়লে বাস্তবেও ঠ্যাং ধরে টানতে পারো,কি টানবা নাকি?”
“আরে ধুর কি বলো, এ শেষরাতে এখন আমার কাজ নেই
তোমাকে ধরে টানাটানি করতে যাবো আমি। ঘুমাও তো,একটু
পরেই আবার ভোর হয়ে যাবে।”
নীলা আমার কাছ থেকে উঠে গিয়ে ওপাশে আবার শুয়ে
পড়লো।আমি চুপচাপ ঘুমানোর ভান ধরে পড়ে থাকলাম বিছানার
উপরে।
‘হঠাৎ এমন স্বপ্ন দেখার কারণ কী? ওরা দু’জনে চায়ছে টা কি
আমার কাছে? ঐ বাড়ির মালিক সম্পর্কে আমাকে জানতে হবে।
নিশ্চয় এমন কোনো দূর্ঘটনা লুকিয়ে আছে লোকচক্ষুর
আড়ালে যা কেউ জানে না।
সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে ভোরের আযান পড়লো। বিছানা ছেড়ে
উঠে ফজরের নামাজ পড়ে আর ঘুম আসলো না। মাথার ভিতরে
দুঃস্বপ্নটা চক্রাকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সকালে অফিসে যাওয়ার পথে আবরারকে তার স্কুলে নামিয়ে
দিয়ে আমি পিছনে মোড় নিলাম। সামনের মোড়ে আমাদের
বাড়ির মালিকের বাসা,ওর সাথে কথা বলে যদি কোনো কিছু জানা
যায়,সেই উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলাম।
বাড়ির সামনে যেতেই দেখলাম,বাড়ির মালিক বারান্দাতে বসে বসে
খবরের কাগজ পড়ছে আর চা খাচ্ছে।
আমাকে গাড়ি থেকে নামতে দেখে পত্রিকা থেকে মুখে
তুলে তাকালেন ভদ্রলোক।
তারপর বললেন,”আরে আশিক সকাল সকাল কি মনে করে?
আসো আসো।
তারপর একজন মহিলার নাম ধরে ডেকে বললেন,চা দিতে।
আমি ভদ্রলোককে চা দিতে বারণ করে একটা চেয়ার টেনে
নিয়ে বসলাম।
ভদ্রলোক হেসে বললেন,”তারপর নতুন বাড়িতে কেমন
লাগছে,বাড়িওয়ালা হিসেবে তো আর তোমাদের কোনো
খোঁজই নিতে পারলাম না। একা মানুষ তারউপরে আবার হাঁটুর ব্যাথাটা
বেড়েছে নয়তো সময় করে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে
আসতাম তোমাদের।”
আমিও হেসে জবাব দিলাম,”না তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
এতো কম টাকা দিয়ে এতবড় একটা বাড়ি পেয়েছি,আর তাছাড়াও
আমার স্ত্রী আর ছেলেরও বাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছে।”
বাড়িওয়ালা কথাটা শুনে বেশ প্রফুল্ল মনে বললেন,”তা বেশ
বেশ। তা বাবা কোনো দরকার ছিলো নাকি?”
আমি ইতস্ততভাবে বললাম, “হ্যা চাচা। আপনার কাছে কিছু জানার
ছিলো।”
“হ্যা বলো,কি জানতে চাও?”
“আসলে আমাদের অপজিটে যে ডুপ্লেক্স বাড়িটা আছে।
সেই বাড়িটার সম্পর্কেই কিছু জানার ছিলো?”
কথাটা শোনার পর দেখলাম বাড়িওয়ালার কপালে খানিকটা ভাজ পড়ে
গিয়েছে।
বাড়িওয়ালা অনিচ্ছুক হয়ে বললেন,”তুমি কি ঐ পরিত্যক্ত বাড়িটার কথা
বলছো?”
“হ্যা।”
“কি জানতে চাও বলো?”
“না তেমন কিছু না,আসলে এখানে আসার পর থেকে
লোকমুখে নানান কথা শুনতে পাচ্ছি তো তাই।”
“কি কথা,ঐ বাড়িতে ভূত থাকে,বাড়িটা অভিশপ্ত এইসব তাই তো?”
“হ্যা। আপনি ঠিকি ধরেছেন। সেদিন আমার গাড়ির ড্রাইভারও একই কথা
বলছিলো।”
“তা তোমার কি মনে হচ্ছে,তুমি তো বাড়িটার একদম কাছেই
থাকো। রাস্তার এপার-ওপার। তোমার চোখে কি ওসব কিছু
পড়েছে?”
“নাহ্ তেমন কিছু পড়েনি। আচ্ছা ঐ বাড়িটাতে কারা থাকতো,আর এখন
থাকেনা কেন?”
বাড়িওয়ালা এবার পত্রিকার কাগজটা একপাশে সরিয়ে রেখে
বললো,” ঐ বাড়ির মালিক আসলে এখানকার না। লন্ডনে থাকতো
তাঁরা সহপরিবারে। নাম জাফর চৌধুরী।
মাঝেমধ্যে কাজের ব্যস্ততা কাটাতেই ঐ বিলাসবহুল বাড়িটা
বানিয়েছিলো বাড়ির মালিক।
দেশে আসলে যে কয়টাদিন থাকতো ঐ বাড়িতেই থাকতো।
তারপর আবার চলে যেতো,তবে ঐ বাড়ির দায়িত্ব দেওয়া
হয়েছিলো ঐ বাড়ির কেয়ারটেকার সুমনকে।বেশ বিশ্বস্ত
লোক ছিলো। তবে বিশ্বস্থ থাকলে কি, কথায় আছেনা সবকিছুর
নষ্টের মূলে নারী। ওদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই জিনিস
ঘটেছিলো।
কেয়ারটেকারের নাম ছিলো সুমন,দেখতে বেশ সুঠাম আর
শ্যামবর্ণের হলেও চেহারাতে একধরনের মায়া ছিলো।
হয়তো সেই মায়াতে আচ্ছন্য হয়ে পড়েছিলো বাড়ির
মালকীন।আর এভাবে আসা যাওয়ার এক পর্যায়ে নাকি বাড়ির
মালকীনের সাথে সুমনের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো
বলে শোনা যায়।
“তারপর?”
“তারপর আর কি ঐ বাড়ির মালকীন তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়েকে
নিয়ে নাকি সুমনের হাত ধরে পালিয়ে যায়।”
“বাড়ির মালিক তাঁদের খোঁজার চেষ্টা করেনি?”
“তা আবার করেনি,করেছিলো। এখানকার স্থানীয় থানাতে
বলেছিলো,পুলশি কিছুদিন খোঁজার পর বিষয়টা ধিরে ধিরে চাপা
পড়ে গিয়েছিলো।তারপর ভদ্রলোক একাই আবার লন্ডনে
ফিরে গিয়েছিলো। আর কখনো এবাড়িতে আসেন নি। তারপর
থেকেই এই বাড়িটা পরিত্যক্ত হিসাবেই পরিচিত সবার কাছে। এলাকার
মানুষে নানান ধরনের কথা তুলেছে বাড়িটাকে নিয়ে।
তবে আমি কখনো ওসব বুঝতে পারিনি,এমনকি কখনো
দৃষ্টিগোচরও হয়নি আমার।
বুঝতেই তো পারছো,সাধারণ মানুষ তিলকে তাল বানাতে এদের
কোনো জুড়ি নেই।”
বাড়িওয়ালার থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। বাড়িওয়ালার কথামত যদি
ঐ বাড়ির মালকীন কেয়ারটেকারের সাথে অন্যত্র চলে
যায়,তাহলে আমাদের সাথে যেগুলো হচ্ছে তার ব্যাখা কে
দিবে? আদৈও কি ঐ বাড়ির মালকীন চলে গিয়েছিলো, নাকি ঘটনার
আঁড়ালেও অন্য কোনো ঘটনা লুকিয়ে আছে,যা সবার অজানা?
অফিসের ডেস্কে বসে আছি এমন সময় একজন ভারী
কণ্ঠজড়িত লোক এসে বললো,”স্যার ভালা আছেন?”
একটা জরুরি ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলাম,তাই সেদিকে না তাকিয়েই
বললাম,”এখন চা খাবো না। পরে ইচ্ছে করলে ডেকে নিবো।”
সামনে থাকা লোকটা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ডেস্কের উপর
একটা সাদা কাগজ রেখে চলে গেলো।
আমি ফাইল থেকে চোখ সরিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই
দেখলাম,আমাদের অফিসের চা বয় করিম চাচা দূরে দাঁড়িয়ে
আছে।
কাগজটা হাতে নিয়ে দেখলাম তাতে একটা ফোন নাম্বার লিখা
রয়েছে।
চা বয় চাচাকে ডাক দিলাম।
“করিম চাচা একটু এদিকে আসো তো।”
করিম চাচা সন্তপর্ণে ছুটে এসে বললো,”হ স্যার কিছু কইবেন,চা
লাগবো নি?”
আমি হেসে বললাম,”না চাচা,এইটা কিসের কাগজ দিয়ে গেলে
আমাকে? কার ফোন নাম্বার এইটা?”
করিম চাচা খানিকটা অবাক হয়ে বললো,”স্যার আমি তো আপনারে
কিছু দেয় নাই।”
“একটু আগেই না আমার ডেস্কের সামনে এসে কাগজটা দিয়ে
গেলে আমাকে?”
“নাতো স্যার,আমি তো আমার জায়গাতেই দাঁড়াইয়া ছিলাম। আপনি
ডাকনের পর আইছি।”
“তুমি ছাড়া কি আর কোনো লোক এসেছিলো,বয়স্ক টাইপের?
বা আমার ডেস্কের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছো
কাউকে একটু আগে?”
“কোই নাতো,কাউরে তো দেখি নাই।”
দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করলে সেও জানালো,সে ওমন
কোনো লোককে ভিতরে আসতে দেখেনি।
কাগজটা হাতে নিয়ে চেয়ারে ধপাস করে বসে পড়লাম।
একটু আগে তাহলে যে বয়স্ক লোকটা আমার ডেস্কের
সামনে এসেছিলো সে কে ছিলো?
আর কেউ যদি না আসে,তাহলে কাগজটা কে দিয়ে গেলো?”
কোনোকিছু না ভেবেই কাগজে থাকা নাম্বারটা মোবাইলে টাইপ
করে কল দিলাম। ল্যান্ড ফোনের নাম্বার।নাম্বারে রিং হচ্ছে। রিং
শেষ হওয়ার মূহুর্তে একজন ভারী কণ্ঠে বলে
উঠলো,”হ্যালো জাফর বলছি?”
আমি ফোনটা কানে নিয়ে কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়ে বসে
রয়লাম,ওপাশ থেকে একনাগাড়ে ভদ্রলোক হ্যালো হ্যালো
করেই চলেছে।
এই জাফর কি সকালে বাড়িওয়ালার বলা ঐ জাফর?
আমি বললাম,”হ্যালো। আমি কলাতলীর সাত নাম্বার রোডের
বারো নাম্বার বাসার ভাড়াটিয়া বলছিলাম।”
ফোনের ওপাশটা কিছুক্ষণ নিরব থাকার পর
বললো,”কলাতলী,কোন কলাতলী?”
“কুসুমপুর কলাতলী,আপনি তো জাফর চৌধুরী তাই না?”
লোকটা এবারো কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললো,”ওহ
আচ্ছা,তা কে বলছেন আর কেন ফোন দিয়েছেন,নাম্বার
কোথায় পেয়েছেন আমার?”
“আসলে সেসব বলতে গেলে অনেক সময় লাগবে।
আসলে আপনার কাছে যে জন্য ফোন দিয়েছি, আপনার
ফেলে রাখা ডুপ্লেক্স বাড়িটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
আর আমি একজন কর্পোরেট অফিসার,আপনার বাড়ির সামনের বাড়ির
ভাড়াটিয়া।
আসলে আপনার বাড়িটা যেহেতু খালি পড়ে আছে,আমি চায়ছিলাম
আপনার বাড়িটা ভাড়া নিতে।”
লোকটা এবার বেশ ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বললো,”আপনি কি আমাকে
টাকার লোভ দেখাচ্ছেন,ঐ সামান্য কিছু ভাড়ার টাকা দিয়ে তো
আমার একদিনও চলবে না।”
আমি নিজেকে শান্ত রেখে বললাম,”তা জানি,তবে আপনার বাড়িটা
তো শুধু শুধু পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
এতো বিলাসবহুল বাড়িটা পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হচ্ছে দেখেই
আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম,আপনি যখন রাজি না তাহলে আর কি
করার।”
কথাটা বলে ফোন রেখে দিচ্ছিলাম,তখনি ওপাশ থেকে ভেসে
আসলো,”আপনার যখন বাড়িটা এতোই মনে ধরেছে,তাহলে
আপনি চায়লে বাড়িটা একবারে কিনে নিতে পারেন,পারবেন?”
ভদ্রলোককে সামনা-সামনি যেহেতু দেখার ইচ্ছে ছিলো,তাই
বললাম,”হ্যা পারবো। তারজন্য তো আপনাকে এখানে আসতে
হবে।”
“আচ্ছা ঠিক আছে,আর তাছাড়া আমি এমনিতেও যেতাম। বাড়িটা বিক্রির
জন্য,কয়েকজন বিল্ডারের সাথেও এ বিষয়ে কথা বলে
রেখেছি। আপনার যেহেতু বাড়িটা এতোই পছন্দ
হয়েছে,তাহলে আপনার সাথে একটাবার বসা যেতেই পারে।
আমি কয়েকদিনের ভিতরে বাংলাদেশে যাচ্ছি। তখন কথা হবে।”
বলেই লোকটা লাইনটা কেটে দিলো।
আমি ফোনটা হাতে নিয়ে হতভম্ব হয়ে বসে ভাবতে লাগলাম,এই
লোকটাকে যে আমি মনে খুঁজছি মনে খুঁজছি তা অন্যকেউ
জানলো কিভাবে?
আমি তো কাউকে বলিও নি,আর যেই লোকটা আমাকে কাগজটা
দিয়ে গেলো সেই বা কে ছিলো? ভদ্রলোক আসলেই
সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।
..

অন্তিম পর্ব)
দিনকে দিন কি আমি আরো বেশি করে অসুস্থ্য হয়ে যাচ্ছি? কি
হচ্ছে এসব আমার সাথে। যা আমি দেখি তা আর কেউ দেখতে
পাচ্ছে না কেন?
এসব ভাবতে ভাবতে আমার সামনের দেওয়ালে থাকা সি সি
ক্যামেরার দিকে চোখ পড়লো।
ক্যামেরাটা ঠিক আমার ডেস্কের অপরপ্রান্তে বসানো
রয়েছে। সুতরাং আমার ডেস্কের সামনে যে কেউই আসুক না
কেন সে ঐ ক্যামেরাতে ধরা পড়বে।
ছুটে গেলাম কন্ট্রোল রুমে,গিয়ে কন্ট্রোলারকে আমার
ডেস্কের সামনে থাকা সি সি ফুটেজটা দেখাতে বললাম।
দেখলাম মনিটরে একজন আপাদমস্তক কালো চাদরে
মোড়ানো লিকলিকে চেহারার আগুন্তকঃ ধির গতিতে আমার
ডেস্কের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর আমাকে কিছু একটা
বলছে,হয়তো ‘ভালা আছেন স্যার’ এই কথাটায় বলছিলো। আমি
আমার ফাইলটার দিকে মাথা নিচু করে ব্যস্ত হয়ে আছি।
লোকটা এবার চাদরের ভিতর থেকে ডান হাতটা বার করে একটা
কাগজ রেখে দ্রুত গতিতে আবার চলে গেলো।
ফুটেজটা ফ্রিজ করার পরও লোকটার মুখটা ঠিকমত ঠাওরে উঠতে
পারলাম না।
কারণ পুরো মুখটা চাদর দিয়ে মোড়ানো।
তাহলে চা বয় করিম চাচা আর দারোয়ান যে বললো তারা কাউকে
আমার ডেস্কের সামনে আসতে দেখেনি,তাহলে এই
লোকটাকে ক্যামেরা কিভাবে ধারন করলো?
অফিসের অন্য স্টাফদের বললে হয়তো বিষয়টা আরো জটিল
হতে পারে,সেই ভয়ে ঘটনাটা চেপে গেলাম।
আজ পাঁচ-ছয়দিন পর খুব সকালে একটা অচেনা নাম্বার থেকে
সকালে ফোন আসলো,রিসিভ করতেই একজন পুরুষালী
কণ্ঠে বললো,”আমি বাংলাদেশে এসেছি।
কয়েকঘন্টার ভিতরে কুসুমপুর পৌঁছে যাবো।আপনি ফ্রি আছেন
তো?”
কথাগুলো শুনে বুঝতে বাকি রয়লো না,সামনের বাড়িটার মালিক,
জাফর চৌধুরী আসছেন তাহলে।
আমি একগাল হেসে জবাব দিলাম,”হ্যা একদম ফ্রি আছি। আপনি
সোজা এসে আমার বাসায় উঠবেন,একসাথে দুপুরের খাবার
খাবো।”
ওপাশ থেকে ভদ্রলোক হেসে লাইনটা কেটে দিলো।
আমি দ্রুত অফিসে ফোন দিয়ে পেট খারাপের কথা বলে ছুটি
নিয়ে নিলাম।
এদিকে নীলাকেও বললাম,দুঃসম্পর্কের এক কাজিন আসছে বাহির
থেকে, আমাদের বাসাতেই উঠবে সে।তাঁর জন্য যেন খাবার
রেডি করে রাখে।দুপুরে একসাথে খাবো।
নীলা আর মাসি রান্না করাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো,আর আমি
আবরারকে স্কুলে রেখে এসে অপেক্ষা করতে
লাগলাম,ভদ্রলোকের আশার পথ চেয়ে।
দুপুরের দিকে রাস্তার ওপাশে থাকা বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে
থামলো,বাসা থেকে বার হয়ে সেদিকে গেলাম।
গাড়ির ভিতর থেকে একজন মাঝবয়সী ভদ্রলোক নেমে
দাঁড়ালো। বাড়িটার দিকে তাঁর তাকানোর ভঙ্গিমা আর পোষাক
দেখে খুব একটা বেগ পেতে হলো না ভদ্রলোককে
চিনতে। ইনিই তাহলে এই বাড়ির মালিক,জাফর চৌধুরী। নামের সাথে
চেহারা আর পোষাক-পরিচ্ছেদের বেশ মিল আছে।
পরনে ছাঁয় রংয়ের একটা কোর্ট পরা ,চোখে হাল্কা ফ্রেমের
চশমা, মাথায় কাঁচাপাকা চুল সেই সাথে বাদামী রংয়ের সুঠাম দেহটাতে
একটা চৌধুরী চৌধুরী ভাব আছে।
আমাকে আসতে দেখেই ভদ্রলোক বলে উঠলো,”
আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম জাফর চৌধুরী। “
বলেই হ্যান্ডশেকের জন্য হাতটা বাড়িয়ে দিলেন।
আমিও হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম,”আমি আশিক, আমার
সাথেই আপনার কথা হয়েছিলো।”
“ওহ্ আচ্ছা, আপনিই সেই ভদ্রলোক।”
“হ্যা, আমার বাড়ি রাস্তার ওপাশে,ঐযে ,ওখানে ফ্রেশ হয়ে
দুপুরের খাবার খেয়ে তারপর না হয় এ বাড়িতে আবার আসা যাবে।
ভদ্রলোক গাড়িটা ছেড়ে দিয়ে আমার সাথে হাঁটতে লাগলো।
লোকটা তাঁর সাথে করে শুধু একটা হ্যান্ডব্যাগ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে
আসেনি।
হয়তো ঐ ব্যাগের ভিতরেই বাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র
আছে।
জাফর সাহেবকে একটা রুম দেখিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিতে
বললাম।
নীলা আর মাসি খুব যত্ন করে তৈরী করা স্বাধের খাবারগুলো এক
এক করে টেবিলে এনে সাজিয়ে রেখে আবার ভিতরে চলে
গেলো।
জাফর সাহেব ফ্রেশ হয়ে বাহিরে আসলে হরেক পদের খাবার
দেখে আমার স্ত্রীর বেশ প্রশংসা করলেন।
তারপর একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন।
ভদ্রলোক আমার বয়সেরই হবে,হয়তো আমাদের দু’জনের
ভিতরে কয়েকবছরের ব্যবধান।
জাফর সাহেব খাবার মুখে দিয়ে বললেন,” আপনার স্ত্রী, সন্তান
ওরা কোথায়? কাউকে দেখছি না যে?”
আমি নীলাকে ডাক দিতেই মাসি আর নীলা দু’জনে দরজার মুখে
এসে দাঁড়ালো।
জাফর সাহেব খাবার খেতে খেতে নীলার দিকে তাকিয়ে
বললো,”আপনি অনেক সুন্দর রান্না করেন,অনেকবছর পর আজ
বাঙ্গালী খাবার খাচ্ছি তাও অনেক তৃপ্তি করে।”
নীলা হেসে জবাব দিলো,”আপনি আসবেন শুনে এই অল্পকিছু
রান্না করা হয়েছে ভাইয়া।আপনার ভাই যদি আমাকে আগে বলতো।
আপনারা বিলেতি মানুষ,আমাদের দেশীয় খাবার তো ভুলেই
গিয়েছেন একবারে।”
জাফর সাহেব বললেন,”এতো খাবার সব আমার জন্য রান্না
করেছেন,আগে জানলে তো দুদিন না খেয়ে থেকে তারপর
আসতাম।”
জাফর সাহেবের কথা শুনে যা বুঝলাম,তিনি খুব মজার মানুষ। সেই
সাথে বেশ ভোজনপ্রিয়।
খাবার খাওয়া শেষ করে জাফর সাহেবকে রুমে বিশ্রাম নিতে
বলে আমি আবরারকে নিয়ে আসলাম।আবরারাকে পেয়ে জাফর
সাহেব আরো বেশি খুশি হলেন।
আবরারের আদর মাখানো কথার ঝুড়িতে জাফর সাহেবকে
আরো বেশি মুগ্ধ করলো।
খুব কম সময়ে দু’জনে অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গেলো।
আমি মনে মনে যা সন্দেহ করেছিলাম,লোকটাকে দেখে
তো সেরকম লাগছে না। ভদ্রলোক বেশ সহজ-সরল আর সাদা
মনের মানুষ।
বিকেলের দিকে একটা জরুরী কাজে বের হওয়ার নাম করে
জাফর সাহেবের সাথে তাঁর বাড়িতে আসার জন্য বার হলাম।
বাড়ির সামনে আসতেই ভদ্রলোক একটাবার পুরো বাড়িটার দিকে
তাকালেন,তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পকেট থেকে চাবিটা
বার করে গেইটের তালা খুললেন।
দীর্ঘদিন গেইটটা বন্ধ হয়ে থাকাতে,সম্পূর্ন খুললো না।
সামান্য সরিয়ে দিয়ে দু’জনে ভিতরে ঢুকলাম।
এক পা এক পা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আর জাফর
সাহেব এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখছে।
হয়তো পুরনো স্মৃতিগুলো আওড়াচ্ছেন তিনি।
বাড়ির সদর দরজার সামনে এসে থমকে দাঁড়ালেন, তারপর আমার
দিকে তাকালেন ভদ্রলোক।
লক্ষ্য করলাম,তার চোখের কোণে জল জমে গিয়েছে।
ভদ্রলোক ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন,” জানেন তো, এই বাড়িটা
আমার অনেক সখের একটা বাড়ি। বাড়িটার প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে
আমাদের স্মৃতি লুকিয়ে আছে।
ঐযে ওখানে আদ্রিতাকে নিয়ে রোজ বিকেলে খেলা
করতাম।
আর আমার স্ত্রী বসে বসে আমাদের বাবা-মেয়ের খেলা
দেখতো।
সব হারিয়ে গিয়েছে,সবকিছুই এখন শুধু স্মৃতি। অনেকবার আসতে
চেয়েছি এইবাড়িটাতে,কিন্তু আসতে মন চায়নি।
কেন যানি মনে হয়,এই বাড়িতেই আমার স্ত্রী আর মেয়ে
আজও লুকিয়ে আছে।
ঐ বেয়াদব কেয়ারটেকার টাকে যদি কোনোদিন চোখের
সামনে পাই,সেইদিনই গুলি করে মারবো তাকে।
আমার স্ত্রীকে নিয়ে ওতো ভাবি না,একজন বেইমানকে নিয়ে
ভেবে কষ্ট পেতে চাইনা আমি,তবে আমার মেয়েটার জন্য
খুব কষ্ট হয়,না জানি কেমন আছে কোথায় আছে মেয়েটা?”
জাফর সাহেবের কথাগুলো শুনে নিজের কাছেই খুব খারাপ
লাগছে,এতো সহজ সরল একজন মানুষকে কিভাবে তাঁর স্ত্রী
এতোবড় একটা ধোঁকা দিলো?
লোকটার আজ সব কিছু থাকলেও তাঁর জীবনে ভালোবাসাটার
বড্ড অভাব।
জাফর সাহেব আবার বললেন, “আপনার গাড়িটা আমাকে দিবেন,আমার
একটু কেনাকাটার দরকার ছিলো।
এসেই যখন পড়েছি,কিছুদিন কাটিয়ে যেতে চায় আপনাদের
সাথে। আবরারের সাথে।”
আমি বললাম,”এভাবে বলছেন কেন,আপনি তো আমার বড়
ভাইয়ের মত।
আপনার যে কয়দিন মন চায়,আপনি থাকবেন। বরং আপনি থাকলে
আমাদেরই আরো ভালো লাগবে।”
জাফর সাহেব হাসলেন,তারপর বললেন,”তাহলে চলুন। দিনের
আলো ফুরানোর আগেই কেনাকাটা করে আসি।
কালকে সকালে বাড়িটা ভালো করে দেখে তারপর বাকি কথা
হবে।”
আমিও আর জোর করলাম না।
দু’জনেই বেরিয়ে আসলাম। তারপর আমার গাড়ির চাবিটা দিয়ে
বললাম,”আমার ড্রাইভার কি যাবে আপনার সাথে?”
“না আমি একাই যেতে পারবো। একটা সময় তো এখানেই থাকতাম
আমি,পথে ঘাট সব পানির মত মুখস্থ আমার।”
কথাটা বলেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো জাফর সাহেব।
সন্ধ্যার একটু পরে জাফর সাহেব ফিরলো।
সাথে দেখলাম আবরারের জন্য গাড়ি ভর্তি খেলনা।
এসব দেখে বললাম,”এসব কি কিনেছেন? আপনি না বললেন
আপনার জন্য কেনাকাটা করবেন?”
“এগুলোই আমার, আবরার আর আমি খেলা করবো এগুলো
দিয়ে।”
বলেই হেসে আবরারের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।
আবরার তো নতুন খেলনা পেয়ে মহাখুশি।
ভদ্রলোকের এমন পাগলামি দেখে বেশ খানিকটা কষ্টও
লাগলো। সন্তান হারানো পিতা হয়তো আজকে নতুন
আরেকজনকে সন্তানকে পেয়ে দুঃখটাকে ভুলবার চেষ্টা
করছে।
হয়তো আবরারের ভিতরে তাঁর মেয়েকে খুঁজে
পেয়েছে। সেই জন্যই একটু বেশি আদর করছে।
রাতে খাওয়া দাওয়া করার পর সবাই মিলে অনেক মজা করলাম।
একাকিত্ব কাটাতে পেরে জাফর সাহেব যেন আজকে একটু
বেশিই খুশি,আমাদের সবাইকে পেয়ে।
রাত একটু গভীর হলে জাফর সাহেব বললেন,”আজকে অনেক
কথা-বার্তা হলো।অনেকদিন পর আজ এতো সুন্দর একটা সময় পার
করলাম। আসলেই আপনারা অনেক ভালো। বিশেষ করে ভাবির
হাতের রান্নাটা।
আমি চলে গেলেও হয়তো এগুলো আমার মন থেকে
কখনো হারাবে না।”
কথাবার্তার এক পর্যায়ে আবরার বললো,”মা আমি আজকে নতুন
আংকেলের সাথে ঘুমাবো।”
নীলা বকা দিতে গেলে জাফর সাহেব বললেন,”থাকুক না আমার
সাথে,একটাদিনই তো।
আমারো ভালো লাগবে,আর রাতটাও কেটে যাবে আবরারের
সঙ্গে খুনসুটি করতে করতে।
আবরারকে জাফর সাহেবের সাথে পাঠিয়ে দিয়ে আমরা
আমাদের রুমে চলে আসলাম।
আমাদের রুমের ঠিক অপরপ্রান্তে জাফর সাহেবের থাকার
ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আবরার, জাফর সাহেবের রুমে আছে দেখে দরজার পাল্লা দুটি
এমনিতেই ভিজিয়ে রাখলাম।যাতে করে রাতে আবরারের
আসতে মন চায়লে সহজেই এই রুমে চলে আসতে পারে।
হঠাৎ করে হাল্কা বাতাসে দরজার পাল্লা দুটি নড়ে উঠাতে ঘুম
ভেঙ্গে গেলো আমার।
ঘুম ঘুম চোখে একটাবার দরজা দিয়ে সামনের রুমটাতে তাকাতেই
দেখলাম,সামনের রুমের দরজাটাও খোলা। রুমের ভিতরে
আলো জ্বলছে। হাতঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সময়টাকে দেখে
নিলাম একটাবার, রাত দুটো বেজে ত্রিশ মিনিট।
এতো রাতে রুমে আলো জ্বলছে,তাহলে কি জাফর সাহেব
এখনো ঘুমায় নি?
আমি পানি খাওয়ার জন্য উঠে ডাইনিং এ গিয়ে ফেরার সময় রুমে
একটাবার উঁকি দিতেই দেখলাম,রুমে আবরার বা জাফর সাহেব
দু’জনেই কেউই নেই। ভাবলাম হয়তো বেলকনিতে আছে,
বেলকনিতে গেলাম,সেখানেও কেউ নেই। একে একে
পুরো বাড়িতে খুঁজলাম,আবরার আর জাফর সাহেব দু’জনের
কেউই নেই কোথাও।
মনের ভিতরে অজানা একটা ভয় চেপে বসলো।
নীলাকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সদর দরজার
কাছে আসতেই হঠাৎ করে চোখ পড়লো রাস্তার ওপাশে থাকা
বাড়িটার দিকে।
উপরের বেলকনি দিয়ে আলোর রশ্মি ফিকে বের হয়ে
এসেছে খানিকটা।
জাফর সাহেব কি তাহলে ঐ বাড়িতে গিয়েছে আবরারকে নিয়ে।
কিন্তু এতোরাতে ঐ বাড়িতে কি কাজ থাকতে পারে তার,আর তাও
আবার আবরারকে সাথে নিয়ে।
তাহলে কি আবরার আজকেও আবার ঐ বাসার বেলকনিতে কাউকে
দেখেছে?
ভয়টা আরো গাঢ় হতে লাগলো।
কোনোকিছু না ভেবে দ্রুতগতিতে সেদিকে হাঁটা শুরু করে
দিলাম।
বাড়ির গেইটের তালা খোলা,গেইট সরিয়ে ভিতরে ছুটে গিয়ে
সদর দরজার সামনে এসে দাঁড়ালাম।
বাড়ির ভিতরে কে যেন গম্ভীরস্বরে একনাগাড়ে কিছু একটা পাঠ
করে চলেছে।
ভাষাগুলো অনেকটাই অস্পষ্ট।
দরজাতে হাত দিতেই দরজার পাল্লা দুটি দুদিকে ফাঁক হয়ে সরে
গেলো।
দরজা খুলে যেতেই চোখ কপালে উঠলো আমার।
ড্রয়িংরুমের মাঝখানে সারি সারি কতকগুলো কাঠ গোল করে
সাজানো মস্তবড় একটা অগ্নিকুণ্ডে আগুন দাউদাউ করে
জ্বলছে। আর অগ্নিকুন্ডের সামনে দন্ডায়মান একটা ভয়ংকর মুর্তির
পায়ের নিচে বসে আছে একজন তান্ত্রিক। পরণে লাল
কাপড়ের এক টুকরো পোষাক,বলতে গেলে অর্ধনগ্ন
অবস্থাতেই চোখ বন্ধ করে ধ্যানে মত্ত আছে সে।
কপালে লাল-সাদার তিলক লাগানো,গলায় ঝুলছে রুদ্রাক্ষের মালা।
আগুনের আঁচে মুখটা চিনতে খুব একটা কষ্ট হলোনা আমার।
লোকটা আর কেউ নয়,সকালে গাড়ি চড়ে আসা কোর্ট-টাই
পরিহিত সেই ভদ্রলোক, মানে এই বাড়ির মালিক জাফর চৌধুরী!!
একি এই ভদ্রলোক এই বেশভূষা কেন পরেছে,আর এইসবই বা
কেন করছে? আর এই ভয়ংকর মূর্তিটায় বা কোত্থেকে
এলো?
সেদিন যখন এসেছিলাম,তখন তো এসবের কিছুই ছিলো না
এখানে।
তাহলে কি বিকালে তখন কেনা-কাটার নাম করে এইসব জিনিসপত্র
কিনতে গিয়েছিলো লোকটা?
এতো প্রশ্নের মাঝেও যখন দেখলাম ভয়ংকর মূর্তিটার দু পায়ের
মাঝখানে আমার ছেলে আবরার অবচেতন অবস্থাতে পড়ে
আছে,তখন আর নিজেকে শান্ত রাখতে পারলাম না।
ছুটে গিয়ে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বললাম,”এইসব কি হচ্ছে? আর আমার
ছেলেকে এখানে কেন নিয়ে এসেছেন? একজন মুসলিম
হয়ে এ কার পূজা করছেন আপনি?”
লোকটা এবার চোখ খুলতেই ভিতরটা ধক্ করে উঠলো আমার।
চোখের মনি দুটো জলজল করে জ্বলছে তার আগুনের মত।
যেন জ্বলন্ত দুটো আগ্নেয়গিরি চোখের মনিতে বসানো
আছে।
আমি ভয় পেলেও দমে না গিয়ে ছুটে গেলাম আবরারকে
নেওয়ার জন্য।
সামনে বসে থাকা লোকটা এবার অকথ্য ভাষাতে গালি দিয়ে আমার
দিকে হাত বাড়াতেই আমি ছিটকে গিয়ে পড়লাম অগ্নিকুন্ডের
একপাশে।
ব্যাথায় ককিয়ে উঠে কোনরকমে আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে
বললাম,”আমার ছোট্ট ছেলেটা কি ক্ষতি করেছে, তাকে কেন
নিয়ে এসেছেন এখানে?”
লোকটা বজ্রকণ্ঠে বলে উঠলো,”যেখানে স্বার্থ হাসিলের
জন্য নিজের মেয়েকে সমর্পণ করতে একটুও বুক কাপেনি
আমার,সেখানে তোর ছেলে আর এ এমন কি!!
শোন তাহলে, এখানে তুই আমাকে নিয়ে আসিস নি,বরং আমি
নিজে থেকে এসেছি তোর ছেলের জন্য। এই বাড়িতে ঠিক
এইখানে আমার মেয়েকে এভাবে বলি দিয়েছিলাম,আর আমার
স্ত্রী বাঁধা দিতে এসেছিলো দেখে তাকেও খুন করেছিলাম।
আর তারপর তাঁদের দু’জনকে উপরের ঘরের আলমারিতে
ঢুকিয়ে রেখে দোষ চাপিয়ে দিয়েছিলাম বাড়ির কেয়ারটেকার
সুমনের নামে। বেচারা খুব ভালো মনের মানুষ ছিলো,কিন্তু
আমার কাজে যে বাঁধা দিবে তাকেই যে মরতে হবে।
তাই ও বেচারাকেও মরতে হলো।
সবাই ভাবলো,আমার বউ-মেয়েকে নিয়ে সুমন ভেগে
গিয়েছে। আর আমিও নাটক বানিয়ে দেশ ছেড়ে চলে
গেলাম। এতোদিন তো আমার সবকিছু ভালোই চলছিলো,তবে
এখন যে আবার শয়তান মাকে সন্তুষ্ট করতে হবে।
আর তখনি তুই ফোন দিয়ে নিজের ছেলের বিপদ ডেকে
আনলি। আজকে তোদের দু’জনকে শয়তান মায়ের নামে বলি
দিয়ে আমার কার্যসিদ্ধি সাধন করবো। একসাথে জোড়া বোলি
পাবে মা আমার।”
বলেই হাসতে লাগলো লোকটা।
আমি সেদিকে ছুটে যেতে গেলেও যেতে পারলাম না।
মনে হচ্ছে কেউ যেন আমার পা দুটি শক্তকরে মেঝের
সাথে আটকিয়ে ধরে রেখেছে।
লোকটা একমনে মন্ত্র পড়তে লাগলো,আর অগ্নিকুন্ডের
ভিতরে ঘি আর ধুপ ছিটাতে লাগলো।
খানিকক্ষন মন্ত্র পড়ার পর আগুনের ভিতর থেকে একটা
ঝলসানো ছুরি বার করে দাঁড়িয়ে বললো,”মা তোর মনোবাসনা
পূর্ণ হউক সেই সাথে আমারো।
বলেই ছুরিটা আবরারের গলাতে চালাতে যাবে ঠিক তখনি একটা
চিৎকার দিয়ে উঠলো লোকটা।
তাকিয়ে দেখলাম,একজন মহিলা লোকটার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
চুলগুলা এলোমেলো হয়ে আগুনের উত্তাপে যেন ছড়িয়ে
ছিটিয়ে আছে চারদিকে।
বজ্রধ্বনিতে সেই নারীকণ্ঠ বলে উঠলো,”তুই নিজের
ইচ্ছাতে আসিস নি এখানে,তোকে আমি নিয়ে এসেছি।”
লোকটা এবার ভয়ে মুচড়ে গিয়ে বললো,”তুমি! না না এ কিভাবে
সম্ভব! তুমি তো মরে গিয়েছো,আমি নিজ হাতে তোমাকে খুন
করেছি।”
নারীকণ্ঠটা হেসে বললো,”ভয় পেওনা,তোমার না
আমাদেরকে ছেড়ে থাকতে ভিষণ কষ্ট হয়,তাই তো
তোমাকেও আমাদের সাথে নিয়ে যেতে এসেছি।
আদ্রিতাও যে অনেকদিন তাঁর বাবার আদর পায়নি। দেখো
দেখো তোমার মেয়েকে দেখো,তোমার আদর পাওয়ার
জন্য কতটা ব্যাকুল হয়ে আছে।”
কথাটা শুনে ঘাড় ঘুরিয়ে সিড়ির দিকে তাকাতেই দেখলাম সেদিনের
সেই ছোট্ট মেয়েটা সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে।
গলাতে তীক্ষ্ম সুরির দাগ বসানো।
রক্তের কালচে ছাপে ভয়ংকর হয়ে আছে সেই দাগ।
মেয়েটা নেমে এসে জাফর সাহেবে কাছে গিয়ে
বললো,”বাবা যাবে না আমাদের সাথে। আমার যে তোমাকে ছাড়া
ভিষণ কষ্ট হয় থাকতে বাবা। যাবে না আমাদের সাথে?”
বলেই আরো কাছে এগিয়ে গেলো লোকটার।
জাফর সাহেব এবার প্রাণের ভয়ে পালাতে গেলে নিজেই পা
ফসকে গিয়ে জলন্ত অগ্নিকুন্ডের ভিতরে পড়ে গেলো।
দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা অাগুন ধিরে ধিরে জাফরের শরীর
থেকে মাংস গুলোকে ঝলসে দিতে লাগলো।
জাফরের স্ত্রী আর মেয়ে দুজনে অপলক দৃষ্টিতে সেই
বিভীষিকাময় দৃশ্যটা যেন উপভোগ করছে।
জাফর আর্তনাদ করতে করতে একটা সময় জ্বলন্ত আগুনের
মাঝে হঠাৎ করে হারিয়ে গেলো।এই বিভীষিকাময় গা হীম করা
দৃশ্য যেন আমার চোখ আর নিতে পারছে না।
আমি ছুটে গিয়ে আবরারকে কোলে নিয়ে চলে আসতে
যাবো,তখন জাফরের স্ত্রী বলে উঠলো,”আপনাদের এই
কয়দিন অনেক কষ্ট দিয়েছি। আসলে আপনাদেরকে আমাদের
অস্তিত্বটাকে বুঝাতে চেয়েছিলাম। এতবছর সবার কাছে মিথ্যে
বদনাম নিয়ে মরে যাওয়ার পরও একমূহুর্ত শান্তিতে থাকতে পারিনি
আমরা মা-মেয়ে। যে মানুষটাকে আমি অন্ধ্যের মত
ভালোবেসেছিলাম,সেই মানুষটাই কিনা মানুষ নামের নরপিশাচ
ছিলো। লন্ডনের একটা ছোট্ট শহরে শয়তানের পূজা এখনো
চলে,নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রতিবার একটা করে নবজাতক
শিশুর বোলি দিতে হয়। বিনিময়ে সে যায় চায় তাই পায়। আমার
স্বামীও লোভের তাড়নাতে এতটাই অন্ধ্য হয়ে গিয়েছিলো
যে শেষমেষ মুসলিম ধর্মের হওয়ার পরও শয়তানের পূজো
শুরু করে।
লন্ডনে কাজটা করা রিস্কি ছিলো,তাই সে ঠিক করে এইখানে
একটা বাড়ি বানিয়ে বাড়ির ভিতরেই সে এই কর্মকান্ড গুলো করবে।
আর বোলি শেষে মৃত লাশগুলো বাগানের কুয়োতে
ফেলে দিবে।কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাবেনা। আর সেইজন্য
যখনি ওর কাউকে বোলি দেওয়ার প্রয়োজন পড়তো তখনি এই
বাড়িটাতে এসে একটা করে বোলি দিয়ে আবার ফিরে যেতো
আমাদেরকে নিয়ে। এসব দেখেও চুপ ছিলাম,শুধু ভালোবাসতাম
দেখে।
কিন্তু যখন শুনলাম,আমাদের নিজের মেয়েকে বোলি
দিবে,তখন আর মা হয়ে আমি চুপ থাকতে পারিনি। আর সেদিনের
সেই বাধা দেওয়াতেই একসাথে আমাকে আর আদ্রিতাকে খুন
করে ঐ নরপিশাচটা।
আমাদের দু’জনকে মেরে ঐ নরপিশাচটা আলমারিতে ঢুকিয়ে
রেখেছিলো। তিলে তিলে আমাদের শরীরটা পঁচে গলে
নষ্ট হয়েছে।
কাঠপোকা এসে খুবলে খুবলে খেয়েছে আমাদের
ফেলে যাওয়া শরীরের মাংসগুলা।
আর সেইজন্যই আমাদের মুক্তি হয়নি। তবে আজ থেকে আমরা
মুক্ত।
আজ থেকে আর কেউ আপনাদের বিরক্ত করবেনা। আমাদের
কাজ শেষ,আর কাউকে কখনো এ বাড়িতে দেখতে পাবেন না।”
“জাফর তার প্রাপ্য শাস্তি পেয়েছে। তবে মানুষ অর্থসম্পদের
মোহে পড়ে যে এতটা পিশাচ হয়ে যেতে পারে,তা এই
লোকটাকে না দেখলে কখনো জানতেই পারতাম না।
ঐ বদমাশ লোকটা আপনার সম্পর্কে এমনভাবে মিথ্যা গুজব
ছড়িয়েছে এলাকার মানুষের কাছে,যে কেউ শুনলেই সে
আপনাদেরকেই দোষারোপ দিবে। এমনকি আমি নিজেও প্রথম
শুনে আপনাকে কতকিছুই না মন্দ বলেছি। “
কথাগুলো বলে আবরারকে নিয়ে চলে আসছিলাম,এমন সময়
পিছন থেকে ছোট্ট মেয়েটা বলে উঠলো,”আমি কিন্তু
আবরারের সঙ্গে মাঝেমাঝে খেলতে আসবো।”
আমি ঘাড় ঘুরিয়ে হেসে বললাম,”এসো।”
তারপর আবরারকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম।
নীলা এখনো ঘুমাচ্ছে,আবরারকে মাঝখানে রেখে
রোজকার মত আরেকপাশে আমি শুয়ে পড়লাম আমি।
পরদিন সকালে
“এই আশিক,জাফর ভাইয়া কোথায়?”
“তোমার জাফর ভাইয়া তো সেই ভোরে উঠেই চলে
গিয়েছে। কি যেন একটা কাজ পড়ে গিয়েছে,তাই আর থাকতে
পারলো না।”
“একটাবার বলে তো যেতো,আমি সারারাত ধরে কতকিছু ভেবে
রেখেছি,নতুন নতুন রান্না করবো বলে।”
বিড়বিড় করে বললাম,”
তুমি সারারাত রান্নার রেসিপি ভাবছিলে,আর আমরা বাপ ছেলে ভূতের
সাথে কুতকুত খেলছিলাম।”
“কি বললা?”
“কোই কিছু না তো,আচ্ছা জাফর নেই তো কি হয়েছে,একটাদিন
নিজের স্বামীকেই না হয় ভালো মন্দ রেঁধে খাওয়াও একটু।”
নীলা চোখ উল্টিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলে, আমি
আবরারের দিকে তাকালাম।
আবরার এখনো ঘুমাচ্ছে। ছেলেটাকে জড়িয়ে ধরে
বললাম,”রাতে এতোকিছু ঘটে যাওয়ার পরও ছেলেটা কিভাবে
ঘুমাচ্ছে দেখো।”
কথাটা বলে আবরারকে জড়িয়ে ধরে আবার ঘুমালাম।
সমাপ্ত….


তো আজকে এই পর্যন্তই । মানুষ মাত্রই ভুল হয় । তাই ভুল হলে ক্ষমা করে দিয়েন । আশা করি পোস্টটি সবার ভালো লেগেছে । কোনো কিছু না বুঝতে পারলে কমেন্টে জানান । আপনি চাইলে এই লিংক এ ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে join করতে পারেন । আর যেকোনো প্রয়োজনে ফেসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন ।



The post নিয়ে নিন চমৎকার একটা ভৌতিক গল্প [শেষ অংশ] appeared first on Trickbd.com.


নিয়ে নিন একটি চমৎকার ভৌতিক গল্প [প্রথম অংশ]

নিয়ে নিন একটি চমৎকার ভৌতিক গল্প [প্রথম অংশ]

Hello what’s up guys কেমন আছেন সবাই ? আশা করি ভালো আছেন । সবাইকে স্বাগতম আজকের একটি নতুন পোস্টে । টাইটেল আর thumbnail দেখে already বুঝে গেছেন আজকের টপিক কি । আশা করি পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখবেন । তো বেশি কথা না বলে আজকের পোষ্ট শুরু করা যাক

ভৌতিক রহস্য গল্প

ওইখানে কে ?? ☠

পার্ট ০১

“বাবা বাবা দেখো ঐ বাড়ির আন্টিটা আমাকে ডাকছে।”
ছয় বছরের ছেলে আবরারকে নিয়ে বেলকনিতে বল ছোঁড়া
খেলছিলাম,হঠাৎ তাঁর কথাতে সেদিকে তাকালাম।আবরার আমাদের
বাড়ির ঠিক অপজিটে রাস্তার ওপাশে থাকা পরিত্যক্ত বাড়িটার দিকে তার
ডান হাতটা তুলে ধরে আছে।
আবরারের কথামত বাড়িটার দিকে তাকালাম,পুরো বাড়িটা ঘুটঘুটে
অন্ধকার।রাতে চাঁদের মিহি আলোতে আবছা ভাবে ঠিকমত
বাড়িটাকেই ঠাওর করা অসম্ভব,সেখানে আমার ছেলে একজন
নারীকে কিভাবে দেখলো?আর ও বাড়িতে তো কেউ
থাকেও না,বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়ির মালিককে একবার জিজ্ঞাসা
করাতে বলেছিলো,ও বাড়িতে কেউ থাকেনা।
রাতের অন্ধকারে কি দেখতে কি দেখেছে বাচ্চা ছেলে।
নিশ্চয় ভুল দেখেছে।
আমি আবারারের দিকে তাকিয়ে বললাম,”বাবা ওখানে কেউ
নেয়,আসো আমরা আবার খেলা করি।”
কিন্তু আবরার আর খেলাতে মনোযোগ দিলো না,বরং জানালার
গ্লাস ভেদ করে ঐ বাড়িটার দিকেই তাকিয়ে থাকলো ক্ষীণ
দৃষ্টিতে।
আমি কোনো উপায়ন্তর না দেখে আবরারকে নিয়ে রুমে
চলে আসলাম।
তারপর সবাই মিলে একসাথে রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
পরদিন সকালে বাপ বেটা নাস্তা সেরে বেরিয়ে পড়লাম
একসাথে।আগের বাসায় থাকতে আবরারকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া
আর নিয়ে আসার জন্য একটা লোক রেখে দিয়েছিলাম।কিন্তু
এখন আর সেটার প্রয়োজন নেই।কারণ আমার অফিসে যাওয়ার
পথেই আবরারের স্কুল পড়ে।মূলত সেই জন্যই এই নতুন বাড়িটা
ভাড়া নেওয়া।এখান থেকে আমার আর আবরার দুজনেরই
যাতায়াতের সুবিধা।
সুতরাং আবরারকে স্কুলে আনা নেওয়া করার জন্য আলাদা
কোনো লোক বা আবরারের মা মানে আমার স্ত্রীকে
বেগ পেতে হবেনা এখন থেকে।
বাসা পরিবর্তন করার পর আজকেই প্রথম আবরারের স্কুল,তাই ও
বেশ হাসি খুশি মনেই রেডি হয়ে আমার সাথে বেরিয়ে
পড়লো।গাড়িতে ওঠার সময় একপ্রকার অনিচ্ছায় সামনের বাড়িটার
দিকে নজর পড়লো আমার।
বেশ বড়সড় একটা ডুপ্লেক্স বাড়ি,গেইটের ওপাশে সরু কংক্রিট
দিয়ে মোড়ানো রাস্তাটা সঠান বাড়ির আঙ্গিনা পর্যন্ত চলে
গিয়েছে একবারে। সরু রাস্তার দু পাশ জুড়ে অযত্নে বেড়ে
উঠেছে হরেকরকমের ফুলের গাছ সেই সাথে কিছু লতাপাতা।
জনমানবহীন শখের বাড়িটা আজ যত্নের অভাবে পরিত্যক্ত হয়ে
থাকলেও তার মান একটুও ক্ষুণ্ণ হয়নি এখনো,বরং সগৌরবে মাথা
তুলে দাঁড়িয়ে আছে দৈত্যের মত করে।
আবরারকে স্কুলে রেখে আমি আমার অফিসের উদ্দেশ্যে
রওনা দিলাম।
দুপুরের দিকে একটা জরুরি কাজ পড়ে যাওয়াতে নীলাকে
ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলাম,সে যেন আবরারকে স্কুল থেকে
নিয়ে যায়।
কথামত ড্রাইভারকে বলে গাড়িও পাঠিয়ে দিলাম।
সন্ধ্যার একটু আগে ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফেরার সময় আবারও
বাড়িটার দিকে চোখ পড়লো আমার।পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া
সূর্যের রক্তিম আলোতে বাড়িটার সৌন্দর্যটাকে যেন আরও
বেশি করে ছড়িয়ে দিতে চায়ছে।
নিজের অজান্তে মনের ভিতরে একধরনের অস্বস্তিবোধ
হতে লাগলো আমার।
কেন জানি মনে হচ্ছে বাড়িটার সাথে আমার একটা অদৃশ্য টান
আছে। বাড়িটার প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন আমাকে হাতছানি
দিয়ে ডাকছে বারবার।
কিন্তু এই বাড়িটাকে তো আমি কয়েকদিন হলো দেখছি,তাও আবার
এই নতুন বাড়িতে উঠার পর থেকেই।
এইসব ভাবতে রাস্তা পার হয়ে নিজের বাড়িতে ঢুকে পড়লো
আমার গাড়িটা।
ভিতরে গাড়ি প্রবেশ করতেই আবরার ছুটে এসে আবদার করে
বললো, “বাবা আমার চকলেট?”
আবরারকে দেখা মাত্রই হাতে থাকা ব্যাগ থেকে চকলেটের
বক্সটা বার করে ক্লান্তিময় মুখে হাসি ফুটিয়ে বললাম,”এইযে আব্বু
তোমার চকলেট।”
আবরার চকলেটের বক্স পেয়ে আবার খেলতে চলে
গেলো।দেখলাম আবরারের প্রায় সমবয়সী দু’জন ছেলে-
মেয়েকে আবরার আমার দেওয়া চকলেট গুলা ভাগ করে
দিচ্ছে।
শহর থেকে একটু ভিতরের দিকে হওয়াতে বাড়ির সামনে বেশ
খানিকটা জায়গা আছে,যা এখনকার বাড়িগুলাতে পাওয়ায় যায় না।
ব্যাগটা নীলার হাতে দিতে দিতে বললাম,”ওরা কারা?”
নীলা হেসে জবাব দিলো,”আমাদের প্রতিবেশির ছেলে-
মেয়ে।তোমার ছেলেকে তো ভালো করে চিনো
তুমি,ওর কথার যাদু দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করে ফেলে।
আজকে পাশের বাসা থেকে দু’জন ভাবি এসেছিলো,তাঁদেরই
ছেলে-মেয়ে।
যাক ভালোই হলো,আবরারের তো দু’জন খেলার সাথি হলো কি
বলো?”
,
আমি শুকনো ঠোঁটে হেসে বললাম,”হুম,তবে এখন ভিতরে
নিয়ে চলো।সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।”
বলেই আবরারের সাথে যে দু’জন খেলছিলো তাঁদেরকে
বললাম,”তোমরা আবার কালকে খেলো কেমন,আজকে সন্ধ্যা
হয়ে এসেছে।এখন তোমরা তোমাদের নিজ নিজ বাড়ি চলে
যাও।”
আমার কথামত ওরা দু’জন চলে গেলে আমিও আবরারকে নিয়ে
ভিতরে ঢুকে গেলাম।
আবরার ওর আদরমাখানো গলায় বলতে লাগলো,”জানো বাবা ওরা
না খুব ভালো।আমাকে আগে খেলতে দিছিলো।আমিও আমার
চকলেট ওদেরকে দিয়েছি,খুব ভালো করেছি না বাবা?”
আমি গাল টেনে একটা চুমু খেয়ে বললাম,”হুম খুব ভালো
করেছো।আমার বাবা কি খারাপ করতে পারে।”
তারপর আমি ফ্রেস হয়ে আসলে আবরার ওর নতুন বন্ধুদের
সম্পর্কে নানা রকম গল্প শোনাতে লাগলো আমাকে।ওর নতুন
বাড়ির সাথে বন্ধুদেরকেও খুব পছন্দ হয়েছে।
ছেলের এমন কথাতে কিছুটা আস্বস্ত হলাম,কারন ছোট বাচ্চারা
নতুন কোনো জায়গাতে গিয়ে যদি নিজেকে মানিয়ে নিতে না
পারে বা পছন্দ না হয় তাহলে বিপদের শেষ থাকেনা।
ধিরে ধিরে দিনের আলো একবারে হারিয়ে গিয়ে চারদিকে
অন্ধ্যকার নেমে আসলো।
রোজকার মত আজকেও আবরার বায়না ধরলো,বেলকনিতে
গিয়ে বল ছোঁড়া খেলবে আমার সাথে।
আমিও বাধ্য বাবার মত ছেলেকে নিয়ে বেলকনিতে গিয়ে বল
ছোঁড়া খেলতে লাগলাম।
রান্না ঘরে নীলা আর কাজের মাসি রান্না করছে,আর রান্না করার
সময়টুকু আমিই আবরারের এই বদ অভ্যেসটা করিয়েছি,যাতে রান্নার
সময় নীলাকে বিরক্ত না করে।
বল ছোঁড়ার এক পর্যায়ে আবরার বল হাতে নিয়ে আমার পিছনে
থাকা কোনো একটা জিনিসকে আগ্রহের সহিত দেখতে
লাগলো।
আমি বললাম,”বাবা বল দাও?”
আবরার ঠিক গতকালের মত করেই ডান হাতটা উচিয়ে বললো,”বাবা
ঐ আন্টিটা ডাকছে আমাকে।”
আমি আবরারের মুখে কথাটা শোনা মাত্রই পিছন ঘুরে তাকিয়ে
রাস্তার ওপাশে থাকা বাড়িটার দিকে তাকালাম।কিন্তু সেখানে ঘুটঘুটে
অন্ধ্যকারের মাঝে সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা পরিত্যক্ত
বাড়িটা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়লো না আমার।
আমি আবরারের কাছে গিয়ে তাকে কোলে তুলে নিয়ে
বেলকনিতে একদম পিঠ ঘেষে দাঁড়িয়ে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে
বললাম,”কোথায়, ওখানে তো কেউ নেই বাবা।”
আবরার আমাকে অবাক করে দিয়ে আবারও তার ডান হাতের একটা
আঙ্গুল দিয়ে কিছু একটা দেখানোর ভঙ্গি করে
বললো,”ঐযে,ওখানে একটা আন্টি দাঁড়িয়ে আছে,ইশারা করে
ডাকছে আমাকে!”
আমি ওর হাতের দিকে ভালো করে লক্ষ্য করলাম,ও ঠিক ঐ
বাড়িটার বেলকনিটাকে দউদ্দ্যেশ্য করে দেখাচ্ছে আমাকে।
কিন্তু আমি তো ওখানে কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা।
আবরারের চোখের দিকে তাকালাম,সে বিস্ফিত চোখে
সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
দেখে মনে হচ্ছে সে চোখের ইশারাতেই ও বাড়ির
বেলকনিতে থাকা কোনো একজনের সাথে কথপকথন চালিয়ে
যাচ্ছে।
আমি আর একমূহুর্ত না দাঁড়িয়ে সোজা রুমে নিয়ে চলে আসলাম
আবরারকে।
আবরার বার বার বলতে লাগলো,”বাবা আমি বেলকনিতে
খেলবো,ঐ আন্টিটাকে দেখবো।”
কিন্তু আমি ততোবারই আবরারকে অন্য কথা দিয়ে ভোলানোর
চেষ্টা করতে লাগলাম,কিন্তু বাচ্চারা কি আর সেটা বুঝে।
একসময় উপায় না পেয়ে ধমক দিতেই আবরার রান্না ঘরে কান্না
করতে করতে দৌড়ে পালালো।
এখন গিয়ে ঠিক নীলার কাছে আমার নামে বিচার দিবে।
সেটাই হলো,একটু পর নীলা রান্না করার খুনতি হাতে করে
বেরিয়ে আসলো।
আবরার তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকে বললো,”মা বকা দিচ্ছো না
কেন,বকা দাও বাবাকে।”
নীলা মুচকি হাসিটাকে আটকে রেখে জোর গলাতে
বললো,”আমার আব্বুকে বকা দিছো কেন,তুমি খালি আমার
সোনামনিটাকে বকা দাও,আজকে তুমি বাহিরে ঘুমাবে এটাই
তোমার শাস্তি।কি এবার খুশি তো।”
আবরার মুচকি হেসে বললো,”হুম।”
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবরার ঘুমিয়ে গেলে নীলা
ড্রয়িং রুমে এসে আমার পাশে বসলো,তারপর বললো,”সারারাত
টিভি দেখলে হবে?কাল সকালে তো সেই আমাকে আবার
টেনে তোলা লাগবে।চলো ঘুমাবে চলো।”
আমি নীলার দিকে তাকিয়ে বললাম,”আসলে আমি আবরারকে বকা
দিতে চাইনি,তবে একটা জিনিস কি জানো।আবরার যখন আমার সাথে
বেলকনিতে খেলা করে,তখন ও নাকি আমাদের সামনের বাসার
বেলকনিতে একজন মহিলাকে দেখতে পায়,আর সেই মহিলা নাকি
আবরারকে ইশারা করে ঐ বাড়িতে যাওয়ার জন্য ডাকে।”
“তুমিও না,বাচ্চামি করার স্বভাবটা আর গেলো না।”
“আরে সত্যি বলছি।গতকালকেও আবরার সেম কথা
বলেছিলো,আমি তখন চোখের ভুল ভেবে বিষয়টাকে
এড়িয়ে গিয়েছি।কিন্তু আজকে আমি যা দেখেছি,তা দেখে
মনে হচ্ছে আবরার সত্যি সত্যি ঐ বাড়িতে কোনো একজনকে
দেখতে পায়।আর সে আবরারকে ইশারা করে তার কাছে যাওয়ার
জন্য ডাকে।”
নীলা এবার আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বললো,”কিন্তু
ঐদিন না বাড়িওয়ালা বললো,ঐ বাড়িটাতে কেউ থাকেনা।মেলা বছর
ধরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে বাড়িটা।”
“হুম,প্রশ্ন তো সেখানেই।ঐ বাড়িটাতে যেহেতু কেউ
থাকেনা,তাহলে আমাদের ছেলে ঐ বাড়িতে কাকে
দেখে,আর কেই বা তাকে ইশারা করে ঐ বাড়িতে আসতে
বলে,,,

নীলার দিকে আঁড়চোখে তাকালাম,ওর চোখে মুখে যেন
একধরনের অজানা বিভিষিকা চেপে ধরেছে। আমার ডান হাতটা শক্ত
করে চেপে ধরে যেন আমার ভিতরে ঢুকে যেতে চায়ছে
কোনো এক অজানা আতংকে।
আমি ওর হাতের উপর বাম হাতটা রেখে বললাম,”আরে তুমি তো
দেখছি রীতিমত ভয় পেয়ে গিয়েছো,আবরার ছোট মানুষ কি
দেখতে কি দেখেছে। আর ঐ বাড়িটা তো মেলাদিন ধরেই
বন্ধ হয়ে পড়ে আছে,তাহলে সেখানে মানুষ আসবে
কোত্থেকে?”
নীলা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,”আশিক
তাহলে কি ঐ বাড়িতে কোনো ভূত থাকে?”
আমি তাচ্ছিল্যের সহিত হেসে বললাম,”আরে ধুর,কি বলো না
বলো। তুমিও দেখি এখনো সেই মুরুব্বিদের মত ভূত-
প্রেতে বিশ্বাস করে বসে আছো।ভূত-প্রেত বলতে কিছু
হয়না,ওগুলো তো শুধু লেখকদের কলমের আঁচড়ে গড়া কিছু
কাল্পনিক চরিত্র মাত্র।”
নীলা আর কিছু না বলে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালো,তারপর
বললো,”আবরার একা একা রুমে আছে। চলো রুমে চলো।”
আমিও আর কথা না বাড়িয়ে নীলার পিছন পিছন রুমে চলে আসলাম।
আবরার ঘুমাচ্ছে,দু পায়ের মাঝখানে কোল বালিশটাকে আঁকড়ে
ধরে ঘুমাচ্ছে।
ঠিক আমার মত হয়েছে ছেলেটা,আমিও ছোট থাকতে, না শুধু
ছোট থাকতে নয়, বিয়ের আগ পর্যন্ত আমার ঘুমের সাথি ছিলো
ঐ কোলবালিশটা। পরে বিয়ের পর নীলা আসলে সেটার আর
খাঁটে জায়গা হয়নি।
একদিন মজার ছলে নীলাকে বলেছিলাম,কোলবালিশটাকে
রেখে দিতে।
তখন নীলা বলেছিলো,সে তাঁর খাটে কোনো সতিন রাখতে
পারবে না।
কি এক আজব প্রানী এই নারী জাতি তাই না?
স্বামীর ভাগ কোলবালিশকেও দিতে চায় না।
কি আর করার, বউয়ের মান রাখতে গিয়ে বেচারা কোলবালিশের
জায়গা হলো সোজা খাট থেকে বাক্সের ভিতরে।
কথাটা মনে হতেই নিজের অজান্তেই মুচকি হাসলাম,তারপর রুমের
লাইট টা অফ করে দিয়ে আবরার আরেকপাশে গিয়ে সুয়ে
পড়লাম।
মাথার উপরে সিলিং ফ্যানটা বনবন করে ঘুরছে।
রাতে সবাই বিশ্রাম নিলেও এ বেচারার কোনো বিশ্রাম নেই।
অনেকের বাসায় শীতকালে একটু বিশ্রাম পেলেও আমাদের
বাসায় বারোমাসই তাকে ঘুরপাক খেতে হয়।
কারণ আমি আর নীলা দু’জনেই একরকম,যত শীতই আসুক না
কেন ফ্যান ছেড়ে কম্বল মুড়িয়ে ঘুমানোর অভ্যাস আমাদের।
ছেলেটাও হয়েছে আমাদেরই মত। সুতরাং শীতকালেও কম্বল
মুড়িয়ে ফ্যান ছেড়ে দেওয়াটা আমাদের পরিবারের
মুদ্রাদোষে দাড়িয়ে গিয়েছে এখন।
চাদরটা গায়ে টেনে একবার ওপাশে তাকালাম,ডিম লাইটের
আলোতে দেখলাম,নীলা চোখ বন্ধ করে সুয়ে আছে।
মনে হয় ঘুমিয়ে গিয়েছে।কিন্তু আমার কোনভাবেই ঘুম
আসছেনা।
বার বার আবরারের কথাগুলো মাথার ভিতরে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ছেলেটা কি সত্যিই ও বাড়িতে কাউকে দেখতে পাচ্ছিলো
তখন!! আর আবরার যদি দেখতে পায় তাহলে আমি কেন পাচ্ছিলাম
না?আর যে বাড়িটা অযত্নে এতোদিন ধরে পড়ে আছে,সে
বাড়িতে হঠাৎ করে মানুষ আসবে কোত্থাকে? আজকে
বাড়িটাকে বাহির থেকে দেখেও তো নতুন কিছু মনে হয়নি।
একটাবার আগামীকাল সময় করে বাড়িটাতে ঢুকতে হবে।
হতেও তো পারে কেউ না কেউ লোকচক্ষুর আঁড়ালে ও
বাড়িতে বসবাস করছে।
কিন্তু আসপাশের কেউ তা জানে না। হ্যা আগামীকাল একটা বার ঐ
বাড়িটার ভিতরে ঢুকে দেখতে হবে,আদৈও কোনো মানুষ ঐ
বাড়িতে থাকে কি না।
এসব ভাবতে ভাবতে দু’চোখে তন্দ্রা নেমে আসলো।পরদিন
সকালে উঠে অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তা পার হতেই ড্রাইভারকে
বাড়ির গেইটের সামনে গিয়ে গাড়িটা থামাতে বললাম।
গেইটে একটা মরিচাধরা তালা ঝুলছে,দেখে মনে হচ্ছে বিগত
কয়েকবছর এই তালাতে কেউ হাত পর্যন্ত রাখেনি।জানালার কাচ
নামিয়ে ক্ষীণ দৃষ্টিতে বাড়ির ভিতরের দিকটা দেখার চেষ্টা
করলাম।
বাড়ির সদর দরজাতেও ঝুলছে একটা তালা।
যেখানে দুটো গেইটে তালা ঝুলছে সেখানে এই বাড়িতে
কারো থাকার কোনো প্রশ্নই উঠেনা।
তারপরও বাড়িটার দিকে তাকালে কেন যানি ভিতরটা খচখচ করে
উঠছে।
যেন বিগত কয়েকবছর ধরে এই বাড়িটা তার রহস্য খুলে বলতে
চায়ছে কারো কাছে,কিন্তু তাঁর আর্তনাদ কারো কান পর্যন্ত
পৌঁছাতে পারছেনা।
“ড্রাইভার চলো।”
ড্রাইভার আমাদের কথামত গাড়ি চালাতো লাগলো।খানিকটা এগিয়ে
গিয়ে ড্রাইভার বললো,”স্যার একখান প্রশ্ন করুম,যদি আপনে কন
তো?”
আমি নড়েচড়ে বসে বললাম,”হ্যা বলো।”
“স্যার আপনে হঠাৎ কইরা বাড়িটার সামনে গাড়ি থামাইবার কথা কইলেন
যে কিছু কি হয়ছে?”
আমি ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বললাম,”না তেমন কিছু না,আসলে
এতো সুন্দর একটা বাড়ি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে আছে তো তাই
দেখার ইচ্ছে জেগেছিলো।”
“ওহ আইচ্ছা। তয় বাড়িটা কিন্তু ভালা না,এই বাড়ি নিয়া এলাকার মানসের
মুখে নানান রকমের কথা শুনা যায়।কেউ কেউ কয় এই বাড়িতে নাকি
ভূত-প্রেত বাস করে।”
আমি ধমক দিয়ে বললাম,”কি বলছো এসব,দেখছো না পাশে
ছোট বাচ্চা আছে।আর ওসব ভূত-প্রেতের ভয় অন্যকাউকে
দেখিও বুঝলে।এই তোমাদের মত লোকজনদের জন্যই এই
বিংশ শতাব্দীতে এসেও মানুষের মনে ভূত-প্রেতের ভয়
এখনো গেড়ে বসে আছে।
যত্তসব মূর্খের দল।”
আসতে করে কথাটা বলে,বললাম,”গাড়ি ছাড়ো।”
ড্রাইভার আর কিছু না বলে চুপ থাকলো।
লুকিং গ্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম,তাঁর মুখে চাপা হাসি,সে হাসি
কোনো সাধারণ হাসি নয়।যেন হাসির মাঝে হাজারো রহস্য
লুকিয়ে আছে।
সারাদিন অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতেই রোজকার মত
আজকেও আবরার এসে চকলেটের আবদার করলো।
আমি সঙ্গে সঙ্গে ব্যাগ থেকে বক্সটা বার করে দিতেই
আবরার আবার ওর নতুন বন্ধুদের সাথে খেলাতে মনোযোগ
দিলো।
একবার সেদিকে তাকালাম,দেখলাম আজকে আবরারে খেলার
সঙ্গি আরও একজন বেড়েছে।একটা মেয়ে বাচ্চা,বাচ্চাটির
গায়ের রং দুধে ধোওয়া।
আমি হেসে বাড়ির ভিতরে ঢুকে নীলার হাতে ব্যাগটা দিতে
দিতে বললাম,”আমাদের ছেলে যেভাবে প্রতিদিন ওর বন্ধুর
সংখ্যা বাড়াচ্ছে,কিছুদিন পর দেখা যাবে আমাদের বাড়ির সামনের
দিকটা ছোট খাট একটা খেলার মাঠে পরিণত হয়েছে।
নীলা ব্যস্তভরে বললো,”আবার নতুন কাকে দেখলে তুমি?”
আমি জুতা খুলতে খুলতে বললাম,”কেন বাহিরে যে
দেখলাম,নতুন আরো একটা মেয়ে বাচ্চার আবরারের সঙ্গে
খেলা করছিলো।”
“নতুন বাচ্চা! কোথায় চলো তো দেখি।”
কথাটা বলেই নীলা বাহিরে এসে এদিক সেদিক তাকিয়ে ভিতরে
এসে বললো,”তুমিও না,তোমার মিছামিছি ভয় দেখানোর অভ্যাসটা
আর গেলো না।
কোথায় নতুন বাচ্চা? আবরারের সাথে তো গতকালকের ঐ বাচ্চা
দুজনই খেলা করছে।”
আমি খানিকটা থতমত খেয়ে দ্রুতগতিতে বাহিরে বের হয়ে এলাম।
এসে দেখি আবরারের সাথে গতদিনে ঐ দুজন বাচ্চা খেলা
করছে।
আমি তাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম,”আবরার একটু আগে
তোমার সাথে নতুন আরেকটা মেয়ে বাচ্চা খেলছিলো, সে
কোথায় গেলো?”
আবরার খানিকটা বিরক্তি ভরে বললো,”কোথায় নতুন মেয়ে
বাবা,আমি তো এদের সাথেই খেলছি। আজকে কিন্তু সন্ধ্যা
নামতে এখনো অনেক দেরি আছে,আমি এখনো খেলবো
তুমি কিন্তু নিয়ে যাবে না আমাকে।”
আমি বেশ খানিকটা অবাক হয়ে পাশের দু’জন বাচ্চাকে জিজ্ঞাসা
করলে তারাও একই কথা বললো।তারা কোনো মেয়েকে
দেখেনি এখানে।
তাহলে আমি যে স্পষ্ট দেখলাম,আবরার আমার থেকে
চকলেটের বক্সটা নিয়ে সোজা ঐ মেয়েটার হাতে দিলো।
একটু চারপাশে তাকাতেই দেখলাম,আবরারের পাশেই
চকলেটের বক্সটা পড়ে আছে।তাহলে কি আমি ভুল
দেখলাম,কিন্তু এতবড় চোখের ভ্রম হওয়ার কথা তো নয়,আমি
তো দিব্যি সুস্থ্য মস্তিষ্কে একটা বাচ্চা মেয়েকে দেখতে
পেলাম,সে আবরারের সঙ্গে খেলছিলো।
মাথাটা প্রচন্ড ধরেছে,আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।দ্রুত ভিতরে
ঢুকে গেলাম।তাহলে
নিজের চোখের ভুল এসব,সারাদিন আজগুবি সব চিন্তাভাবনার কারনে
হয়তো ভুল দেখেছি।দ্রুত জামা কাপড় ছেড়ে সাওয়ার নিয়ে
নিলাম।
সারাদিনের অফিসের ক্লান্তি আর সকালের ড্রাইভারের উদ্ভট কথা-
বার্তায় আমার মাথা খারাপ করে দিয়েছিলো।
এখন বেশ হাল্কা লাগছে নিজেকে।
সন্ধ্যার একটু আগেই আবরারকে ওর মা ভিতরে নিয়ে আসলো।
আজকে রান্নার মাসি আসবে না বলে গিয়েছে।সুতরাং এই দীর্ঘ
সময়টা আবরারকে ম্যানেজ করার দায়িত্বটা সম্পুর্ণ আমার ঘাড়ে
এসেই পড়লো।
ছেলের হোমওয়ার্ক শেষ করতে করতে রাত প্রায় নয়টা
বেজে গেলো।আজ ইচ্ছে করেই একটু বেশি সময়
লাগিয়েছি হোমওয়ার্ক করাতে গিয়ে।যাতে করে রাতে
বেলকনিতে গিয়ে খেলার বায়না না করতে পারে ছেলেটা।
নীলার রান্নার কাজ শেষ হয়ে গেলেই সবাই মিলে রাতের খাবার
খেয়ে নিলাম।আগামীকাল শুক্রবার,আমার অফিস ছুটি।আর ছুটির
আগের দিন রাতে আমি একটু রাত বাধিয়েই ঘুমায়।
কারণ সপ্তাহে এই একটা দিন আমি ইচ্ছেমত টিভি দেখতে পারি।
তবে আজকে কেন যানি টিভি দেখতে ইচ্ছে করলো না।
খাওয়া দাওয়ার পর কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে আবরার ঘুমিয়ে পড়লে
আমরা দু’জনেও তার দুপাশে সুয়ে পড়লাম।
হঠাৎ করে কারো চিৎকারের শব্দে বিছানা ছেড়ে উঠে বসে
পড়লাম মাঝরাতে।
আবরারের ওপাশটা খালি,
মুখ দিয়ে স্ব স্পষ্টে বেরিয়ে আসলো,” নীলা কোথায়?”
বিদ্যুতের বেগে রুম ছেড়ে বাহির হতেই দেখলাম,নীলা ডাইনিং
টেবিলের একপাশে অবচেতন হয়ে পড়ে আছে।
আমি সেদিক ছুটে গিয়ে টেবিলের উপর থাকা জগ থেকে পানি
ঢেলে নীলার চোখে ছিটকে মারতেই নীলার হুশ ফিরে
আসলো।
নীলা আমাকে দেখা মাত্রই শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে শক্ত
করে চেপে ধরে কাঁপতে লাগলো।
আমি তাকে অভয় দিয়ে বললাম,”কি হয়েছে তোমার,ঠিক আছো
তো তুমি?আর এভাবে চিৎকার দিয়ে উঠলে কেন?”
নীলার মুখ দিয়ে কথা বার হতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগলো।
খানিকটা সময় চুপচাপ থেকে ডুকরে কেঁদে উঠে
বললো,”আশিক, আমি এ বাড়িতে থাকবো না।এ বাড়িতে ভূত
আছে।”
আমি নিজেকে শান্ত রেখে নীলাকে অভয় দিয়ে বললাম,”কি
বলছো এসব?ভূত কোত্থায় দেখলে আবার।চলো তো
রুমে চলো।”
নীলাকে ধরে রুমে নিয়ে এসে খাটের উপর বসালাম।
তারপর বললাম,”এখন বলো তো কি দেখে ওমনভাবে চিৎকার
দিয়ে উঠলে?”
নীলা কয়েকটা ঢোক গিলে বললো,”একটু পানি খাবো।”
আমার পাশে থাকা পানির বোতলটা দিয়ে বললাম,”নাও।”
নীলা ঢকঢক করে বোতলের পুরো পানিটা পান করে কিছুক্ষণ
দম নিয়ে তারপর বললো,”আমি ঘুম থেকে উঠে পানি পান করার
জন্য ড্রইংরুমে গিয়েছিলাম।
তারপর ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বার করে যেই না ফ্রিজের দরজা
আটকাতে যাবো ঠিক তখনি….
“তখনি কি?”
“তখনি আমি একজন বিদ্ঘুটে চেহারার মহিলাকে দেখতে পাই।ঠিক
আমার একদম চোখের সামনে।মুখটা ভয়ংকর, ফ্যাকাসে।দেখে
মনে হচ্ছিলো যেন কেউ ওর শরীর থেকে সমস্ত রক্ত
শুষে নিয়েছে।
মেয়েটার চোখের ভিতর কোনো মনি ছিলো না,মনির কালো
অংশের পরিবর্তে কেউ যেন সাদা চুনের প্রলেপ লাগিয়ে
দিয়েছে।”
“কি বলছো এসব পাগলের মত,আমি তো তোমার চিৎকার শুনে
ছুটে গিয়ে কিছুই দেখতে পেলাম না।”
“আমি কিছু জানি না,আমি আর এই বাড়িতে থাকবো না।নিশ্চয় এই
বাড়িতে কোনো ঝামেলা আছে।আর সেইজন্যই এত বড় বাড়িটা
বাড়িওয়ালা কম টাকা দিয়ে ভাড়া দিয়েছে।তুমি তো নিজেও
গতকালকে বলছিলে আবরার কাকে যেন দেখেছে সামনের
বাড়িতে।
নিশ্চয় ঐ মহিলায় এসেছিলো।
এ বাড়ি ছেড়ে দাও,মহিলাটা নিশ্চয় আমাদের ছেলের কোনো
ক্ষতি করতে চায়ছে।”
আমি নীলাকে বুকের উপর নিয়ে বললাম,”এখন ঘুমাও।সকাল
হোক তারপর চিন্তা করে দেখা যাবে।”

নীলাকে বুকের উপর নিয়ে এক প্রকার অনিচ্ছাসত্ত্বেই তাঁর বলা
কথাগুলো একমনে আওড়াচ্ছি।
নীলা হয়তো মিথ্যা বলেনি,প্রথমে আবরার তারপরে আমি আর
একটু আগে নীলা।
তবে কি সত্যিই আমাদের উপর কারো কুনজর পড়েছে?
ধ্যাত এসব কি ভাবছি আমি,ভূত-প্রেতে অবিশ্বাস না করা আমিই কিনা
এখন এসব নিয়ে সারাক্ষণ পড়ে আছি।
হয়তো এগুলো সত্যিই হচ্ছে।তবে এসব কোনো অদৃশ্য
শক্তির বলে নয়,বরং কোনো মানুষের দ্বারায় পূর্বপরিকল্পিত
ভাবেই এসব হচ্ছে।
কিন্তু কে করছে,আর কেনই বা করছে?
এখানকার তো তেমনভাবে কেউ আমাদের ঠিকঠাক মতো
চিনে পর্যন্ত না।তাহলে কেউ কেন মিছামিছি ভয় দেখাতে এসব
করবে?
তাহলে কি সত্যি ঐ বাড়িটাতে লোকচক্ষুর আঁড়ালে কেউ থাকে?
আমাকে জানতেই হবে,এ বাড়ি ছেড়ে দিলেও এসব কিছুর রহস্য
উদ্ঘাটন করার পর তবেই যাবো।
আগামীকালই আমি ঐ বাড়িটাতে যাবো,হ্যা আমাকে যেতেই
হবে।
এসব ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত শরীরের ঘুম নেমে আসলো।
সকালে নীলার ডাকে ঘুম ভেঙ্গে চোখ মেলে তাকালাম।
বেশ স্বাভাবিক লাগছে নীলাকে,বরং অন্যদিনের চায়তে
আজকে আরো বেশি মুক্তমনা দেখাচ্ছে তাকে।
আমার দিকে চায়ের কাপটা বাড়িয়ে দিয়ে বললো,”কি দেখছো
ওমন করে,নতুন বউ না আমি,ওভাবে দেখার কিছু নেই। কাপটা ধরে
আমাকে উদ্ধার করো। রান্না বসিয়ে এসেছি।”
অমনোযোগের সাথে হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে কাপটা ধরলাম।
নীলা আঁড়চোখে তাকিয়ে মুচকি হেসে রুম থেকে
বেরিয়ে গেলো।আমি ফ্যালফ্যাল চোখে নীলার প্রস্থান
হওয়া দেখলাম।
ভারি অদ্ভুত তো,রাতে যে মেয়েটার চোখ-মুখে গভীর ভয়
গেঁড়ে বসেছিলো, সেই মেয়েটাকে দেখে এখন কিচ্ছুটি
বুঝবার উপায় নেই।এমন একটা ভাব করে চায়ের কাপটা দিয়ে
গেলো,যেন গতরাতে কিছুই হয়নি।সে কিছুই যানে না!
নীলা কি তাহলে বিষয়টাকে এড়িয়ে যেতে চায়ছে?
আমি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে রুম থেকে বের হলাম।
আবরার ড্রইংরুমে বসে বসে কার্টুন দেখছে।আমাকে
দেখে ফিক করে হেসে আবার কার্টুন দেখাতে
মনোযোগ দিলো।
আমি ড্রইংরুম পার করে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম।
নীলা একা হাতে পুরো রান্নাঘর সামলাচ্ছে।একবার চুলাতে তো
একবার সবজি কাটাতে ব্যস্ত।
আমি দরজার মুখে দাঁড়িয়ে বললাম,”মাসি আসেনি?”
নীলা ব্যতিব্যস্ত হয়ে উত্তর দিলো,”না,মাসির ছেলের নাকি
নিউমোনিয়া হয়েছে,গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে।ফিরতে
কয়েকদিন লেগে যাবে বললো ফোন দিয়ে।”
“তাহলে আরেকজনকে দেখবো?”
নীলা এবার আমার দিকে তাকিয়ে বললো,”কয়েকদিনের জন্য
খামখা কেন আরেকজনকে রাখতে যাবো।কয়েকদিনেরই
তো ব্যাপার, আমি ঠিক সামলিয়ে নিবো।যে ভারি দুজন মানুষের রান্না
করা।”
“আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে,আচ্ছা শুনো বলছিলাম কি সামনের
মোড়ে একটা ভালো বাড়ির খোঁজ পেয়েছি এইটার চায়তে
বেশ ভালো।আমি চিন্তা করছিলাম সামনের মাস থেকে ঐ বাড়িতে
উঠে যাবো,কি বলো তুমি?”
নীলা এবার খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললো,”দুদিন পর পর বাড়ি পরিবর্তন
করতে তোমার ভালো লাগলেও আমার মোটেও ভালো
লাগে না। তোমার আবার কি,বাড়ি ভর্তি ফার্নিচার,আর জিনিসপত্র তো
তোমাকে সামাল দিতে হয়, লোক দিয়ে মালপত্র গাড়িতে
উঠিয়ে আবার নতুন জায়গাতে গিয়ে নামিয়ে নাও।
বাকি কাজগুলো তো সব আমাকেই করতে হয়।আর এ বাড়িটা কি
এমন খারাপ,বেশ তো নিরিবিলি, ছিমছাম আর ভাড়াটাও কম। আর তাছাড়া
আবরারেরও খুব পছন্দ হয়েছে বাড়িটা।এক বছরের আগে তো
ভুল করেও বাড়ি বদলানোর নাম মুখেও নিবে না তুমি, এই বলে
দিলাম।”
নীলার কথাগুলো শুনে বেশ খানিকটা অবাক হলাম আমি,মেয়েটা
বলে কিরে!! গতরাতে যে পারলে তখনি বাড়ি ছেড়ে
পালাচ্ছিলো সে এখন বলে কিনা একবছরের আগে এ বাড়ি
ছাড়লে আমার খবর আছে।
আমি এবার বললাম,”গতরাতের কথা কি সব ভুলে গিয়েছো?”
নীলা চোখ দুটি বড় বড় করে বললো,”কি কথা?”
“আরে আজব তো,এমন একটা ভাব করছো যেন কিছুই জানো
না।গতরাতে যেন তোমার সাথে কিছুই হয়নি?”
“কি হবে আমার। এই তুমি ঠিক আছো তো?”
“আমি ঠিক আছি,তোমার মাথাতে গন্ডগোল হয়েছে।গতরাতে
তুমি কি না কি দেখে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পরে
আমি ছুটে গিয়ে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফেরালে তুমিই তো কাঁদো
কাঁদো কন্ঠে বললে,” এই বাড়িতে ঝামেলা আছে,এই বাড়িতে
আর থাকবে না।আর রাত শেষ হতে না হতে সবকিছু ভুলে
গেলে?”
নীলা এবার খুনতিটা হাতে নিয়ে এগিয়ে এসে বললো,”সকাল
সকাল মশকরা করবা না একদম,কয়দিন ধরে দেখছি তুমি আজগুবি সব
কথাবার্তা বলে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছো।আমি
গতরাতে বাহিরে কখন গেলাম,আর জ্ঞান হারালাম কখন?
আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম।দেখো ভুলভাল বকে একদম মাথা খারাপ
করাবে না।এমনিতেই মাসি আসেনি,একা হাতে সবকিছু করতে হবে।
যাও তো তুমি,আরেক কাপ চা নিয়ে যাও।
খেয়ে যদি মাথাটা খুলে।”
আমি আর কিছু বললাম না,চায়ের কাপটা রেখে চলে আসলাম।
নীলা এসব কি বলছে!! গতরাতে তাহলে আমি যেসব
দেখলাম,সেগুলো কি সব স্বপ্ন ছিলো? কিন্তু স্বপ্ন এতটা
বাস্তবিক হয় কিভাবে?
সকালের নাস্তা শেষ করে কাজের নাম করে বাহিরে বেরিয়ে
পড়লাম।আসলে ঐ বাড়িটাকে একটাবার ভালো করে দেখার
দরকার।নিশ্চয় ঐ বাড়িতে এমন কেউ আছে,যে এগুলো
করাচ্ছে।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার এপাশে এসে থমকে দাঁড়ালাম।
বাড়ির মেইন গেইটে যেহেতু তালাবন্ধ,তাই প্রাচীর টপকিয়ে
ভিতরে ঢুকলাম সাবধানে,যাতে কেউ টের না পায়।
এমনিতেও এই তল্লাটে গোটাকয়েক বাড়ি,আর বসবাসকারী
মানুষগুলাও তেমন জরুরী কাজ ছাড়া খুব একটা বাড়ির বাহিরে বার হয়না।
প্রাচীর টপকিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম বাড়ির সদর দরজার
দিকে।
ছোট ছোট গাছ আর ঘাসের উপরে এখনো ভোরের শিশির
লেপ্টে আছে।বাড়ির বাগানটা দেখে তো মনে হচ্ছে
দীর্ঘ কয়েক বছরের ভিতরে এ বাড়িতে কোনো মানুষের
পা পড়েনি।
ধিরে ধিরে সদর দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম একটা
মজবুত তালা সদর দরজার দুপাশকে আবদ্ধ করে রেখেছে।
যাকে বলে বিনা পারিশ্রমিকে দারোয়ানের দায়িত্ব পালন করা।
তালা ভাঙ্গতে গেলে যদি শব্দ হয়ে এলাকাবাসী জেনে
যায়,তাহলে তখন পড়বো আরো ঘোর বিপদে।হাজারো
প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে তখন।
ভাবলাম কোনো জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকবো।
যেই ভাবা সেই কাজ,সদর দরজা ছেড়ে বাড়ির চারপাশ ঘুরতে
লাগলাম।
জানালার গ্লাসগুলোতে এত পরিমান ধুলো জমেছে যে হাত না
দিলে ভিতরের কোনোকিছু দেখা প্রায় অসম্ভব।
ঘুরতে ঘুরতে বাড়িটার পিছনের দিকে গেলে দেখলাম,একটা
জানালার গ্লাস খানিকটা ভেঙ্গে গিয়েছে।
সেই ভাঙ্গা অংশের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে জানালার লক খুলে
সহসাই ভিতরে ঢুকে গেলাম।
ভিতরে দমবন্ধ করা গুমট বেঁধে আছে,বাহিরে সূর্যের আলো
থাকলেও গ্লাসের গায়ে জমাট বেঁধে থাকা ধুলোর কারণে
ঠিকমত আলো ভিতরে ঢুকতে পারছে না।
আবছা আলোতে একটাবার চারপাশটা ভালো করে দেখে নিলাম।
আমি এখন যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেইটা এই বাড়ির কিচেন।
মেঝেতে ধুলোর মোটা আস্তরণ জমে গিয়েছে।
ধিরে ধিরে এগিয়ে গিয়ে ড্রয়িংরুমে এসে থমকে দাঁড়ালাম।
জিনিসপত্র বেশ গোছানো থাকলেও সেগুলো এখন যত্নের
অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী।মাকড়সার জাল আর ধুলোতে
পুরো ঘরটা ছেয়ে আছে।
এতো স্বাধের বাড়িটা আজ যত্নের অভাবে কি বেহাল দশাটায় না
হয়েছে। কিন্তু একটা সময় তো ঠিকি এই বাড়িটাতে হাসির রল
পড়তো,স্বপ্ন বুনতো কেউ কেউ।
ড্রইংরুমে দাঁড়িয়ে আরো একবার ভালো করে চারপাশটা দেখে
নিলাম,দেখে তো মনে হচ্ছে বহুদিন ধরে এ বাড়িতে
কোনো জনমানবের ছায়া পর্যন্ত পড়েনি।
তাহলে কেউ এ বাড়িতে থাকবে কিভাবে?
একজন মানুষ নিশ্চয় এতোটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকবে না।
বাড়ির রুম গুলোতে ঢুকার ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হলো না,কারণ
প্রতিটা রুমের দরজা লকড করা আছে।শুধু একটা রুম বাদ দিয়ে।
যেটা খোলা ছিলো সেইটার দরজা কিছুটা ফাঁক করে বুঝলাম এই
রুমটা এ বাড়ির স্টোররুম।ভিতরে ভাঙ্গা-চোরা আর অব্যবহৃত কিছু
জিনিসপত্র পড়ে রয়েছে।অবশ্য এখন এ বাড়ির সবকিছুই
অব্যবহৃত।
বাড়িটা দোতলা,নিচের তলাতে একটা মাস্টার রুম,একটা স্টোররুম
আর একটা কিচেন সেই সাথে বৃহদাকার এই ড্রইংরুমটা।
ড্রইংরুমের একপাশ দিয়ে সরু হয়ে উপরে ওটার জন্য উঠে
গিয়েছে আঁকাবাঁকা কাঠের একটা সিড়ি।সেটাতেও মোটা ধুলোর
স্তুপ জমে আছে।ধিরে ধিরে এগিয়ে গিয়ে সিড়িতে পা
রাখতেই শরীরের ভিতরে অজানা একটা হিমশীতল পানির
স্রোত খেলে গেলো শিরদাঁড়া বেয়ে।
একটা অদ্ভুত শব্দে থমকে দাঁড়ালাম।
শব্দটা স্টোর রুম থেকে আসছে।
কানদুটো সজাগ করে চুপচাপ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শব্দটা
ভালো করে বুঝবার চেষ্টা করলাম।
কেউ যেন গোঙ্গানি দিচ্ছে,কিন্তু আমি তো একটু আগেও
যখন দরজা খুলেছিলাম তখন ভিতরে ভাঙ্গাচোরা আসবাবপত্র ছাড়া
কিছুই ছিলো না। পা টিপে টিপে আবার স্টোররুমের দিকে
এগিয়ে গেলাম।
দরজার এপাশ থেকে কান পেতে শব্দটা ভালোমত বুঝার চেষ্টা
করলাম।
মনে হচ্ছে দরজার ওপাশে কেউ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থাতে ছটফট
করছে।
সাতপাঁচ না ভেবেই দরজার হাতল ধরে টান দিলাম।
ক্যাচ কুঁচ শব্দ করে দরজাটা খুলে গেলো।
পকেট থেকে ফোনটা বার করে টর্চ ফেললাম,না কেউ
ভিতরে নেই।
টর্চের আলো এদিক সেদিক ভালো করে ফেলতেই
দেখলাম দৈত্যকার কয়েকটা বিলেতি ইঁদুর আসবাবপত্রের উপরে
ছোটাছুটি করছে।অনেকদিন পর দরজা খোলাতে মনে হয়
তাঁদের সুখের সংসারে ব্যাঘাত ঘটেছে কিছুটা।
নিজেই নিজেকে বিলাপ দিতে লাগলাম,সামান্য ইঁদুরের ভয়ে হাঁটু
কাপা শুরু করে দিয়েছিলো যার,সে আবার এসেছে রহস্যের
উদ্ঘাটন করতে।
স্টোররুমের দরজা টেনে দিয়ে আবার সিড়ির দিকে এগিয়ে
গেলাম।সিড়িতে পা দিতেই কানে এলো উপর থেকে পায়ে
হাঁটার খটখট শব্দ। চুপচাপ খানিকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলাম,শব্দটা কয়েক
মূহুর্তের জন্য হয়ে আবার থেমে গেলো।
নিশ্চয় ব্যাটা উপরে আছে,আমার উপস্থিতি টের পেয়ে ধরা পড়ার
ভয়ে পালাবার চেষ্টা করছে এখন।
তাড়াহুড়ো করে উপরে উঠে গিয়ে আরো বেশি অবাক হলাম।
নিচের তুলনাতে উপরে আরো বেশি ধুলোর আস্তর জমে
আছে।একদম নিখুঁত ভাবে কোনোরকম খুঁত ছাড়াই ধুলো দিয়ে
আস্তরন বিছানো পুরোটা ফ্লোর জুড়ে।
আমি পায়ের ছাঁপ পরিক্ষা করার জন্য কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে পিছন
ফিরে তাকালাম। মেঝের উপরে আমার জুতার ছাপ বসে
রয়েছে। তাহলে একটু আগে যে হাঁটার শব্দটা আসছিলো তাঁর
পায়ের ছাপ কোথায় গেলো?
নিশ্চয় কোনো রুমের ভিতরে হবে। উপরের তলায় তিনটা রুম।
একটা ছোট আর দুটো মাস্টার বেডরুম হবে সম্ভবত। একে
একে গিয়ে সবকয়টার হাতল ধরে মোড়া মারলাম, একটা রুম
খুললো বাকি দুটো লকড করা।
ভিতরে ঢুকলাম,মাস্টার বেডরুম। বেশ বড়সড়।
রুমের ভিতরে একটা বেড একটা ড্রেসিংটেবিল আর একটা
ওয়ারড্রব ছাড়া আর কিছুই নেই।
সেগুলোর অবস্থাও বড্ড নিদারুণ।
ধুলোর স্তর জমে দামি আসবাবপত্র গুলো তার আভিজাত্য
খোয়াতে বসেছে।
রুমের বাহিরে তাকিয়ে দেখলাম বেশ বড় সড় একটা
বেলকনি,এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলতেই চোখে পড়লো
আমাদের বাড়িটা।
তাহলে হয়তো এই বেলকনিটাতেই আবরার কাউকে দেখার কথা
বলেছিলো?
কিন্তু কেউ থাকলে তো তাঁর পায়ের ছাপ থাকতো,আর বেলকনি
দেখেও তো মনে হচ্ছে এখানে বহুদিন কারো স্পর্শ
পড়েনি।
সব আমার মাথার সমস্যা,এসে থেকেই এই বাড়িটা নিয়ে এতটাই
ভেবেছি যে, যে যা বলেছে সেটা নিয়ে ভাবতে শুরু করে
দিয়েছি।
আজকাল তো কতই পরিত্যক্ত বাড়ি পড়ে আছে,মানুষজনেরও
খেয়ে দেয়ে কাজ নেই একটা পরিত্যক্ত বাড়ি দেখলেই
হয়ছে, নানান গুজব রটিয়ে এলাকা বাসির মনে ভয়ভীতি ঢুকিয়ে
দিবে।
মনটা এখন বেশ হাল্কা লাগছে,নিজে সঠিক এটা ভেবে।ভূত
প্রেত বলতে কিছু নেই।সবকিছু মানুষের বানানো রটনা মাত্র।
বেলকনির দরজা দিয়ে রুমের ভিতর দিয়ে বের হওয়ার সময় হঠাৎ
করে চোখ আটকে গেলো দেওয়ালে ঝুলতে থাকা একটা
ফটোফ্রেম দেখে।
একটা ফ্যামিলি ফটোফ্রেম,এক ফ্রেমে তিনজন আবদ্ধ হয়ে
আছে।
বাবা-মা আর তাঁদের ছোট্ট একটা মেয়ে।
মেয়ে!! মেয়েটার চোখ দুটো দেখে খানিকটা খটকা
লাগলো আমার।
এই চোখ দুটো কোথায় যেন দেখেছি আমি।
তবে ধুলো পড়ার কারণে মুখটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছিনা।
এগিয়ে গিয়ে ফ্রেমটা নামিয়ে বাচ্চা মেয়েটার উপর থেকে
ধুলো ঝেড়ে ফেলে দিতেই হৃদপিণ্ডটা যেন একমুহূর্তের
জন্য কেঁপে উঠলো আমার!!
হাত থেকে ফ্রেমটা পড়ে গিয়ে কাচ ভাঙ্গার শব্দে ঝনঝন
করে উঠলো পুরো বাড়িটা।
মেঝের উপরে পড়ে থাকা ফ্রেমের বাচ্চা মেয়েটা আর
কেউ নয়,গতকাল বিকেলে অফিস থেকে ফেরার সময়
আবরারের সাথে যাকে খেলতে দেখেছিলাম এটা সেই
মেয়েটা!! ঠিক একইরকম ভাবে হাসছিলো, যেভাবে এই
ফ্রেমের ভিতরে হাসছে!! তাহলে কি এই মেয়েটাকেই
আবরার দেখতে পায়,কিন্তু আবরার তো বলেছিলো তাকে
একজন আন্টি ইশারা করে ডাকে।
আর বাড়িওয়ালার কথামত যদি এ বাড়িটা দশ বছরের বেশি সময় ধরে
পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকে,তাহলে এতো বছর পরও মেয়েটা
একইরকম থাকে কিভাবে? কোনোকিছু আর ভাবতে
পারছিনা,আমাকে এখন বের হতে হবে।
ফ্রেমটাকে ফেলে রেখে দ্রুত হাঁটা শুরু করে দিলাম।নিশ্চয়
কোনো গন্ডগোল আছে এই বাড়িটাতে।

.বাকি পার্ট
পরের অংশে

পরের পার্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন
তো আজকে এই পর্যন্তই । মানুষ মাত্রই ভুল হয় । তাই ভুল হলে ক্ষমা করে দিয়েন । আশা করি পোস্টটি সবার ভালো লেগেছে । কোনো কিছু না বুঝতে পারলে কমেন্টে জানান । আপনি চাইলে এই লিংক এ ক্লিক করে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে join করতে পারেন । আর যেকোনো প্রয়োজনে ফেসবুকে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন ।




The post নিয়ে নিন একটি চমৎকার ভৌতিক গল্প [প্রথম অংশ] appeared first on Trickbd.com.